“মুসলমানরা একজোট, হিন্দুরা কেন ভাগ?”, নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ‘সনাতনী’ হুঙ্কার শুভেন্দুর
বিজেপি এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৩০০০ টাকা! ভাতা নিয়ে তৃণমূলকে টেক্কা দিতে বড়সড় চাল চাললেন নন্দীগ্রামের প্রার্থী।
Truth of Bengal: নন্দীগ্রামের মহম্মদপুরে এক নির্বাচনী জনসভা থেকে মেরুকরণের রাজনীতির পালে হাওয়া দিয়ে ‘সনাতনী’ ঐক্যের ডাক দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। হিন্দু ও মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের পরিসংখ্যান তুলে ধরে শুভেন্দু দাবি করেন, মুসলমান গ্রামগুলিতে বিজেপির কোনও অস্তিত্ব থাকতে দেওয়া হচ্ছে না, অথচ হিন্দু প্রধান এলাকাগুলিতে সব দলই প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে। এই বৈষম্যের কথা উল্লেখ করেই হিন্দুদের একজোট হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
নির্বাচনী ফলাফল ও বুথভিত্তিক পরিসংখ্যানের তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, “মুসলমান গ্রামগুলিতে বিজেপির পতাকা নেই, বিজেপি প্রার্থী সেখানে প্রচার করতে পারে না। অথচ হিন্দু গ্রামে তৃণমূল প্রার্থী অনায়াসে প্রচার করে। মহম্মদপুর হাইমাদ্রাসা বুথে আমি পাই মাত্র ২ টি ভোট, আর তৃণমূল পায় ৮০০। অন্যদিকে হিন্দু প্রধান বুথে ৭০০ ভোটের মধ্যে আমি পাই ৪০০। একটু ভেবে দেখুন, আপনারা ভাগ হচ্ছেন আর ওরা ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিচ্ছে। সনাতনীরা কবে ঐক্যবদ্ধ হবেন আমি বুঝতে পারছি না।”
ভোটের মেরুকরণের পাশাপাশি এদিন জনমোহিনী প্রতিশ্রুতির ঝুলিও খুলে ধরেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী। রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্যান্য ভাতা নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করেন তিনি। শুভেন্দুর প্রতিশ্রুতি, “১লা জুন বিজেপি সরকার গড়ার পর এখন যাঁরা বিভিন্ন ভাতা বাবদ বছরে ৬ হাজার টাকা পান, তাঁরা পাবেন ১২ হাজার। যাঁরা ১২ হাজার পান, তাঁরা পাবেন ২৪ হাজার। অর্থাৎ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ১৫০০ টাকার বদলে ৩০০০ টাকা এবং বার্ধক্য ভাতা ১০০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হবে।”
এখানেই শেষ নয়, বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ভাতা ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করার অঙ্গীকার করেন তিনি। শুভেন্দু জানান, এই ভাতা শুধু নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য নয়, যতদিন না কর্মসংস্থান হচ্ছে ততদিন দিয়ে যাবে বিজেপি সরকার। ভোটের মুখে একদিকে ধর্মীয় ভাবাবেগ আর অন্যদিকে ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করার এই ঘোষণা নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।






