“এবার আমি সুদে-আসলে ফেরাব!”, ১৭ বছর বিজেপির পাশে থাকার উত্তরবঙ্গের ‘ঋণ শোধ’ করবেন শুভেন্দু
৫৪টি আসনের মধ্যে ৪০টিতেই জয়! উত্তরবঙ্গের ঋণ শোধ করতে এবার কোন মাস্টারপ্ল্যান মুখ্যমন্ত্রীর?
Truth of Bengal: বুধবার উত্তরবঙ্গে এক ঝটিকা সফরে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামতেই তাঁকে রাজকীয় সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের নতুন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ রাজু বিস্তা-সহ উত্তরবঙ্গের একঝাঁক বিজেপি হেভিওয়েট নেতৃত্ব। বিমানবন্দর চত্বরে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, এই সফর স্রেফ সৌজন্যের নয়, বরং উত্তরবঙ্গের খোলনলচে বদলে দেওয়ার সূচনা মাত্র।
বিগত এক দশক ধরে লোকসভা হোক বা বিধানসভা, উত্তরবঙ্গ বরাবরই পদ্ম শিবিরের দুর্ভেদ্য দুর্গ। বিশেষ করে ২০০৯ সালে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে যশবন্ত সিনহার জয়, ২০১৪ সালে সুরেন্দ্র সিংহ আহলুওয়ালিয়ার জয় এবং ২০১৯ থেকে টানা রাজু বিস্তার রেকর্ড মার্জিনে জয়, উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘২০০৯ সাল থেকে বিজেপিকে পাহাড়-সহ উত্তরবঙ্গের মানুষ জায়গা দিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনেও ৫৪টি আসনের মধ্যে ৪০টি আসন আমাদের দিয়েছেন। এবার উন্নয়নের জোয়ার এনে আমি সেই ঋণ শোধ করব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটপ্রচারে এসে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার প্রতিটি অক্ষর মেনে কাজ হবে।”
তোলাবাজদের ‘লাস্ট ওয়ার্নিং’ ও উত্তরকন্যায় প্রতি সপ্তাহের দরবার
প্রশাসনিক কাজকর্ম খতিয়ে দেখার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, “রাজ্যে কোনও ভাবেই তোলাবাজি, কাটমানি বা গুন্ডাগিরি সহ্য করা হবে না। যাঁরা ভাবছেন পুরনো জমানার মতো পার পেয়ে যাবেন, তাঁরা মস্ত বড় ভুল করছেন। আইন এবার সম্পূর্ণ নিজের পথে চলবে।”
উত্তরবঙ্গের বন্ধ থাকা ও থমকে যাওয়া কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্পগুলিকে রকেটের গতিতে চালু করতে এদিন এক মেগা প্রশাসনিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের সমস্যা সমাধান এবং পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এবার থেকে প্রতি মাসে তিনি এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা উত্তরবঙ্গে আসবেন। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক নিজে উত্তরকন্যায় বসে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনবেন ও স্পটেই তার নিষ্পত্তি করবেন।






