জ্বালানি সংকটের গুজবে ‘প্যানিক বুকিং’! দেশজুড়ে ১৫ হাজার সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্র
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৬এ ধারায় ১,২৭৫টি মামলা এবং ২১৬টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে
Truth Of Bengal: আরব দুনিয়ার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমছে না। কেন্দ্র বারবার আশ্বাস দিলেও এলপিজি নিয়ে আতঙ্কে মজুত করার প্রবণতা এবং কালোবাজারির অভিযোগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে তেলেঙ্গনায় বড়সড় অভিযানে বিপুল সংখ্যক বেআইনিভাবে মজুত রাখা এলপিজি সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে। সূত্রে খবর, হায়দ্রাবাদ-সহ গোটা রাজ্যে অভিযানে ৩,৬৯৯টি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার এবং ৭০টি ছোট সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে সিভিল সাপ্লাইস দফতর।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ১২ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত তেলেঙ্গনা জুড়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট প্রায় ১.১০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কালোবাজারি এবং গৃহস্থালি গ্যাসের বেআইনি বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৬এ ধারায় ১,২৭৫টি মামলা এবং ২১৬টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসে ছত্তিশগড়েও একই ধরনের অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ৭৪১টি এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কের আবহে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই নজরদারি বাড়িয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কিছু গুজব ছড়ানোর কারণে কয়েকটি রাজ্যে পেট্রোল পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড় এবং বিক্রি বেড়ে গিয়েছিল। তবে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত রয়েছে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ১২ হাজার অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানে ১৫ হাজারের বেশি এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি (মার্কেটিং ও অয়েল রিফাইনারি) সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, এলপিজি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কোথাও সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তিনি জানান, সোমবার প্রায় ৭০ হাজার ‘প্যানিক বুকিং’ হয়েছে এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য। তবে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা ভাবার এবং প্রয়োজনের বেশি মজুত না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সুজাতা শর্মা আরও জানান, বর্তমানে দেশে ৯৪ শতাংশ গৃহস্থালি এলপিজি বুকিং অনলাইনেই হচ্ছে। তাই ব্যবহারকারীদের এই অনলাইন বুকিং ব্যবস্থাই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডেলিভারি অথেনটিসিটি কোড ব্যবহারের হার বেড়ে ৭৬ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এদিকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক রাজ্যে নন-ডোমেস্টিক এলপিজি বরাদ্দের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বিহার, দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান, মণিপুর, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং উত্তরাখণ্ড-সহ একাধিক রাজ্য এই নির্দেশ কার্যকর করেছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, জাহাজ চলাচল নিয়েও আপডেট দিয়েছেন শিপিং মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা। তিনি জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ২২টি জাহাজ এবং নাবিক সকলেই নিরাপদে রয়েছেন। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব ভারতীয় জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করলেও কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন কালোবাজারি রুখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।






