খেলা

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের নায়ক এবার আইপিএলে! বৈভবকে সামলাতে বিশেষ ছক রিয়ান পরাগের

টি-২০ ক্রিকেটে এমন আগ্রাসী ব্যাটিং খুব কম বয়সেই তাকে আলাদা করে দিয়েছে।

Truth of Bengal: নতুন মরশুম শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে এক কিশোর। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ক্রিকেট দুনিয়ায় ঝড় তুলেছেন বৈভব সূর্যবংশী। আসন্ন আইপিএলে তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। আর সেই কারণেই আগেভাগেই সতর্ক করলেন রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। গত মরশুমেই সবার নজরে আসেন বৈভব। নিলামে বড় অঙ্কের টাকায় তাঁকে দলে নেয় রাজস্থান। সেই আস্থার মর্যাদা দিতেও দেরি করেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। সুযোগ পেয়েই খেলেছেন ঝড়ো ইনিংস। মাত্র সাত ম্যাচে ২৫২ রান। গড় ৩৬। আর স্ট্রাইক রেট দু’শোরও বেশি। টি-২০ ক্রিকেটে এমন আগ্রাসী ব্যাটিং খুব কম বয়সেই তাকে আলাদা করে দিয়েছে।

দলের নিয়মিত অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন চোট পাওয়ায় সুযোগ আসে তাঁর সামনে। আর সেই সুযোগ তিনি দুই হাতে লুফে নেন। একবার দলে ঢোকার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গুজরাতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচেই ইতিহাস। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি। তাও আবার মাত্র ৩৫ বলে। একের পর এক বড় শট। নির্ভীক ব্যাটিং। সেখান থেকেই শুরু তাঁর উত্থান। শুধু আইপিএল নয়, বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও নিজের ছাপ রেখেছেন বৈভব। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারতের জয়ের পিছনে ছিল তাঁর বড় অবদান। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮০ বলে ১৭৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। দল জেতে একশো রানে।

তাই স্বাভাবিকভাবেই এবার আইপিএলে তাঁকে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা। আর সেই জায়গাতেই সতর্ক রিয়ান পরাগ। তাঁর কথায়, এই মরশুমে বৈভবকে ঘিরে হাইপ এবং চাপ—দুটোই থাকবে। কিন্তু সেই চাপ যেন সরাসরি তাঁর উপর না পড়ে, সেটাই চান অধিনায়ক। পরাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলে এমন ক্রিকেটার আছেন যারা এই চাপ সামলাতে পারেন। যেমন যশস্বী জয়সওয়াল। প্রয়োজনে তিনিই দায়িত্ব নেবেন। বৈভবের কাজ একটাই—মাঠে নেমে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলা। অধিনায়কের পরিকল্পনা পরিষ্কার। যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা হবে এই তরুণকে। মিডিয়ার বাড়তি নজর থেকেও দূরে রাখা হবে। অযথা সাংবাদিক সম্মেলন বা বেশি কথাবার্তা—এসব থেকে দূরে রাখতেই চান পরাগ। তাঁর বিশ্বাস, এতে করে চাপ কমবে। আর বৈভব নিজের খেলাটা আরও স্বচ্ছন্দে খেলতে পারবেন। সব মিলিয়ে রাজস্থান শিবিরে এখন একটাই লক্ষ্য—প্রতিভাবান এই কিশোরকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা। কারণ প্রতিভা আছে, কিন্তু সেই প্রতিভাকে ধরে রাখা এবং বড় মঞ্চে ধারাবাহিকতা দেখানোই আসল চ্যালেঞ্জ। এবার দেখার, সেই পরীক্ষায় কতটা সফল হন বৈভব সূর্যবংশী।

 

Related Articles