আন্তর্জাতিক

পরমাণু চুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে চলেছে ইরান

তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা চুক্তির বিষয়ে ‘আপস’ করতে বা সুর নরম করতে রাজি, তবে তার বদলে একটি বড় শর্ত রাখা হয়েছে।

Truth Of Bengal: আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে চলেছে ইরান। আগামী মঙ্গলবার সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকে যোগ দিতে রবিবার রাতেই একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও কারিগরি প্রতিনিধি দল নিয়ে জেনেভার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা চুক্তির বিষয়ে ‘আপস’ করতে বা সুর নরম করতে রাজি, তবে তার বদলে একটি বড় শর্ত রাখা হয়েছে। ইরানের দাবি, তাদের ওপর আরোপিত সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। তবেই তারা নিজেদের শর্তে পরমাণু চুক্তিতে সায় দেবে।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার সমান্তরালে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনাও তুঙ্গে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যদি এই চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে তাদের ভয়াবহ ফল ভোগ করতে হবে। চাপ বাড়াতে ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের এই হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরানও। ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী মজিদ তাখত-রাভানচি সতর্ক করে জানিয়েছেন, তাঁদের দেশে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে ইরানও তার উপযুক্ত ও কড়া জবাব দেবে।

জেনেভার এই বৈঠকটি মূলত গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের মাস্কাটে হওয়া পরোক্ষ আলোচনারই একটি ধারাবাহিকতা। ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া সেই বৈঠকে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন আরাঘচি। জেনেভাতেও ওমানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। পরমাণু আলোচনার পাশাপাশি জেনেভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আইএইএ’ (IAEA)-র প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গেও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের এই অনড় অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির আবহে জেনেভার বৈঠকটি বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Articles