কলকাতা

ঢাকার মসনদে বসছে বিএনপি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কি নতুন মোড়? মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে শান্তি ফিরবে এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে

Truth of Bengal: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে বিএনপি। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শুক্রবার সকালে ওপার বাংলার রাজনৈতিক পালাবদল নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে শান্তি ফিরবে এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে যে অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি বরাবরই সোচ্চার ছিল। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন এবং বিজেপি কর্মী দীপু দাস হত্যাকাণ্ড নিয়ে দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতারা বারবার কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমনকি বাংলাদেশি পণ্য বয়কটের ডাকও দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তবে এখন খালেদা জিয়ার দল ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পাশাপাশি দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক মধুর হবে বলেই মনে করছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। নির্বাচনী ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২৯৯টি আসনের সংসদে প্রয়োজনীয় জাদুসংখ্যা পেরিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি। যদিও জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে জয়ী হতে পারেনি, তবে রাজধানী ঢাকায় তাদের অভাবনীয় সাফল্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার আক্ষেপ মিটিয়ে এবার বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ নজিরবিহীন উৎসাহে ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল ৬০.৬৯ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ৮০.১১ শতাংশ ভোট পড়লেও তার মধ্যে ৭০.২৫ শতাংশ বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। পাশাপাশি গণভোটে ৭৭.৭ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ সূচক মতামত দিয়েছেন। কোনো ধরনের বড় রক্তপাত বা প্রাণঘাতী সংঘাত ছাড়াই একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণের বার্তা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মহলের কড়া নজরদারিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন যেন বাংলাদেশের মানুষের কাছে ঈদের আনন্দকেও হার মানিয়েছে। দীর্ঘ অস্থিরতা কাটিয়ে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করে দেশের সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলো বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য গণতান্ত্রিক নজির স্থাপন করল। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকারের নেতৃত্বে আগামী দিনে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।

Related Articles