ডেঙ্গি মোকাবিলায় নজর পুরমন্ত্রীর, ‘স্পেশাল ড্রাইভ’শুরু করল কলকাতা পুরসভা ও মেট্রো রেল
অভিযানের সূচনায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
Truth of Bengal: বর্ষার মরসুমে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ ঠেকাতে কলকাতা পুরসভা এবং মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ যৌথ ভাবে বিশেষ অভিযান শুরু করল। শনিবার এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন থেকে শুরু হয়েছে ‘মেগা ভেক্টর কন্ট্রোল স্পেশাল ড্রাইভ’। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই অভিযান। পুরসভা, মেট্রো এবং অন্যান্য সরকারি দফতরের সমন্বয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
অভিযানের সূচনায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কোনও একটি সংস্থা বা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষকেও এই লড়াইয়ে সামিল হতে হবে। বাড়ি, বারান্দা কিংবা টবে জল জমতে না দেওয়া এবং জলের ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার রাখার জন্য নাগরিকদের সচেতন করেন তিনি।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের সমস্ত মেট্রো স্টেশন এবং সংলগ্ন এলাকা এই অভিযানের আওতায় থাকবে। মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন ছাড়াও রেল ইয়ার্ড, কারশেড, অফিস ভবন ও আবাসন এলাকাতেও মশার বংশবৃদ্ধি রুখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বিভিন্ন স্টেশন, ট্রেনের কারশেড এবং রেল আবাসন এলাকাতেও অভিযান চালানো হবে।
পরিত্যক্ত জমি বা প্রাঙ্গণে ঝোপঝাড়ের মধ্যে জল জমে থাকলে কিংবা জল জমার সম্ভাবনা থাকলে সংশ্লিষ্ট জমির মালিককে নোটিস দেওয়া হবে। পুরসভার নির্দিষ্ট আইনি ধারায় এই নোটিস পাঠানো হবে। নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহার বা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রেও জরিমানার ব্যবস্থা থাকছে। নিয়ম ভাঙলে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইকে গণআন্দোলনে পরিণত করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসন যতই ব্যবস্থা নিক, সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে মশাবাহিত রোগ নির্মূল করা সম্ভব নয়। শহর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জল জমার উৎসগুলিও দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দেন তিনি।
কলকাতা পুরসভার আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডের বক্তব্য, মশা কোনও সীমানা মানে না। তাই একটি নির্দিষ্ট এলাকা পরিষ্কার রেখে অন্য এলাকা বাদ দিলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। পুরসভা এবং মেট্রোর যৌথ উদ্যোগ সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফুটপাথ, পার্কিং এবং বিপজ্জনক বিলবোর্ড নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। ফুটপাথ মানুষের হাঁটার জন্যই রাখতে হবে বলে জানান তিনি। বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। শহরের পার্কিং ব্যবস্থা আরও নিয়ন্ত্রিত করতে নতুন একটি অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।






