‘বন্দে মাতরম’ বাজলে উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক! নতুন নির্দেশিকা জারি করল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক
শুধু তাই নয়, এই গান চলাকালীন প্রত্যেককে উঠে দাঁড়িয়ে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

Truth of Bengal: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় স্তোত্র নিয়ে। কেন্দ্রের জারি করা নয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে সরকারি অনুষ্ঠান বা বিদ্যালয়ে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশনের ঠিক পরেই ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। শুধু তাই নয়, এই গান চলাকালীন প্রত্যেককে উঠে দাঁড়িয়ে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মন্ত্রকের নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি উপস্থিত রয়েছেন এমন অনুষ্ঠানে তাঁর আগমন ও প্রস্থানের সময় এই গান পরিবেশন করতে হবে। এ ছাড়াও পদ্ম পুরস্কারের মতো বিভিন্ন অসামরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া আবশ্যক। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সিনেমা হলে এই গান বাজানো বাধ্যতামূলক রাখা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের শাসনকালে এই গানের যে চারটি স্তবক বাদ দেওয়া হয়েছিল, এবার থেকে সেই অংশগুলিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ ছটি স্তবকই পরিবেশন করতে হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নাগরিকদের মনে দেশপ্রেমের জোয়ার আনতে এবং জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত বছর এই গানের স্তবক বাদ দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়েছিল। তৎকালীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট নিয়ে মোদীর মন্তব্যের কড়া বিরোধিতা করেছিল বিরোধী শিবির। এমতাবস্থায় সম্পূর্ণ গানটি গাওয়ার এবং উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর এই নতুন নিয়ম পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ককে আবার উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নির্দেশিকার প্রভাব কেমন হবে, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।




