দেশ

শুধু নিরামিষ নয়, বন্দে ভারত স্লিপারে এবার মিলবে আমিষও, নতুন মেনুতে কী কী থাকছে?

এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছিলেন, শীঘ্রই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে আমিষ খাবারের বিকল্প চালু করা হবে।

Truth Of Bengal: ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড টুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে যাত্রীদের জন্য নতুন খাবারের মেনু প্রকাশ করেছে। প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধা মাথায় রেখে এই সংশোধিত মেনু তৈরি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৭ জানুয়ারি কামাখ্যা–হাওড়া–কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে ট্রেনটির যাত্রা শুরু হয়।

IRCTC বুধবার জানায়, হাওড়া–কামাখ্যা–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে যাত্রীরা এখন আমিষ ও নিরামিষ—দুই ধরনের খাবারের মধ্যে বেছে নিতে পারবেন। এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছিলেন, শীঘ্রই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে আমিষ খাবারের বিকল্প চালু করা হবে। প্রথম দফায় প্রকাশিত মেনুতে কোনও রকম আমিষ পদ রাখা হয়নি, যা সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলে।

হাওড়া থেকে কামাখ্যার দিকে যাত্রা করলে IRCTC তিনটি আলাদা খাবারের মেনু তালিকা জারি করেছে। চা, বিস্কুট ও মাফিন ছাড়াও, ভাত ও পোলাও বিকল্প হিসেবে বাসন্তী পোলাও, ঘি ভাত বা পিস পোলাও দেওয়া হবে। সঙ্গে থাকবে পরোটা, ছোলার ডাল, আলু-গাজর-মেথি-মটর ভাজা বা ঝুরি আলু ভাজা। তরকারির মধ্যে থাকবে মটর পনির, ছানার ডালনা বা ধোঁকার ডালনা। নন-ভেজ অপশনে থাকবে বাঙালি চিকেন কারি, মুর্গ রোগিনি ও মুরগির ঝোল। শেষ পাতে ডেজার্ট হিসেবে থাকবে সন্দেশ, কালো জাম বা ক্ষীর কদম।

কামাখ্যা থেকে হাওড়াগামী ট্রেনের যাত্রীদের জন্যও আলাদা তিনটি মেনু তালিকা তৈরি করা হয়েছে। চা, বিস্কুট ও মাফিনের পাশাপাশি ভাত ও পোলাও বিকল্প হিসেবে থাকবে জিরা রাইস, জিরা কর্ন পোলাও ও কিসমিস পোলাও। সঙ্গে পরিবেশন করা হবে তেহড়ার পরোটা, মিক্সড ডাল (অড়হড় ও মুগ), লেসেরা আলু ভাজা (অসমের বিশেষ পদ), ঢেঁড়স আলু ভাজা বা বিনস আলু ভাজা। তরকারি হিসেবে থাকবে পনির মসালা ও কড়াই পনির। নন-ভেজ হিসেবে থাকবে চিকেন মসালা ও চিকেন কারি। ডেজার্টে থাকছে নারকেল বরফি, লাল মোহন বা রসগোল্লা।

প্রথম মেনু প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়, কারণ বাংলা থেকে অসম যাওয়ার এই ট্রেনে শুধু নিরামিষ খাবার রাখায় অনেকের অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের যাত্রীদের মধ্যে বড় অংশই আমিষভোজী। বিষয়টি নজরে আসতেই বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সুকান্ত জানান, তিনি রেলমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস পান। রেলমন্ত্রীর তরফে জানানো হয়, শুধুমাত্র নিরামিষ রাখার সিদ্ধান্ত কখনওই স্থায়ী ছিল না। নতুন পরিষেবা চালুর সময় প্রাথমিক মেনুতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তাই খুব শিগগিরই আমিষ খাবারের বিকল্প চালু করা হবে।

নতুন এই মেনু চালু হওয়ায় বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে যাত্রার অভিজ্ঞতা আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় হবে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে আমিষ খাবারের বিকল্প যুক্ত হওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে।