হঠাৎ কনভয় থামিয়ে ঝালমুড়ি খাওয়া! ঝাড়গ্রামের রাস্তায় প্রধানমন্ত্রীর এলাহি কাণ্ড
“দারুণ স্বাদ!” ইনস্টাগ্রামে বাঙালির ঝালমুড়িকে দরাজ সার্টিফিকেট নমোর, ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম এখন ‘সেলিব্রিটি’।
Truth of Bengal: বাংলার ভোটের ময়দান যখন রাজনৈতিক তর্জায় উত্তপ্ত, ঠিক তখনই এক ঘরোয়া মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রচারের ঝটিকা সফরে জঙ্গলমহলে গিয়ে বাঙালির চিরকালীন প্রিয় ‘ঝালমুড়ি’র স্বাদ নিলেন নমো। রবিবার ঝাড়গ্রামে জনসভা সেরে হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে যাওয়ার পথে হঠাৎই কনভয় থামিয়ে রাস্তার ধারের এক ঝালমুড়ির দোকানে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘আমজনতা’ সুলভ আচরণ দেখে থমকে যায় এলাকা। শুধু নিজে খাওয়া নয়, পকেট থেকে টাকা দিয়ে উপস্থিত জনতাকেও ঝালমুড়ি খাইয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
ঝাড়গ্রাম কলেজ মোড়ে বিক্রম সাউয়ের ‘চবনলাল স্পেশাল ঝালমুড়ি’র দোকানে এদিন ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্রধানমন্ত্রীকে হাতের নাগালে পেয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। কালো চশমা আর কুর্তা পরে হাসিমুখে মুড়ির ঠোঙা হাতে মোদীর সেই ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সুপার ভাইরাল। পরে নিজেই ইনস্টাগ্রামে সেই ছবি পোস্ট করে ঝালমুড়িকে বাংলার ‘সুস্বাদু পদ’ বলে তকমা দেন তিনি। অনেকেই বলছেন, জঙ্গলমহলের মন জিততে মোদীর এই ‘ঝালমুড়ি কূটনীতি’ এক কথায় মাস্টারস্ট্রোক।
এতদিন বাংলার পথেঘাটে চায়ের দোকানে ঢুকে চা বানানো বা পাহাড়ে গিয়ে মোমো তৈরির কারিগর হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেখা যেত। জনমানসে দিদির এই ‘ঘরের মেয়ে’ ভাবমূর্তি অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীকে এভাবে জনতার ভিড়ে মিশে গিয়ে রাস্তার ধারের খাবার খেতে আগে কখনও দেখা যায়নি বাংলার মাটিতে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঙালি ভাবাবেগকে ছুঁতে হলে যে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস আর সংস্কৃতির সাথে মিশে যাওয়া জরুরি, তা এতদিনে বিলক্ষণ বুঝেছেন মোদী।
শাসকদল তৃণমূল অবশ্য বিষয়টিকে ‘ভোটের গিমিক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাদের প্রশ্ন, দীর্ঘ বছর ক্ষমতায় থেকেও কেন হঠাৎ ভোটের তিন দিন আগে বাংলার স্বাদের প্রতি এই টান জাগল? তবে সমালোচকদের যাই মত হোক না কেন, ঝাড়গ্রামের ওই ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম সাউয়ের আনন্দ আজ বাঁধ ভেঙেছে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে এক ঠোঙা ঝালমুড়ি তুলে দিতে পারাটা তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো। প্রচারের শেষ লগ্নে মোদীর এই ‘ঝালমুড়ি প্রেম’ জঙ্গলমহলের ব্যালট বক্সে কতটা মশলা যোগ করে, সেটাই এখন দেখার।






