ডিজিসিএ অনুমোদিত ‘জেআইএস ড্রোন একাডেমি’ র সূচনা
বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ওই একাডেমির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
Truth Of Bengal: রাহুল চট্টোপাধ্যায়: জেআইএস গ্রুপ চালু করল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম ও বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক ডিজিসিএ অনুমোদিত ‘জেআইএস ড্রোন একাডেমি’। জেআইএস গ্রুপ কলকাতার দমদমে অবস্থিত তাদের ডক্টর সুধীর চন্দ্র সুর ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এন্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্স (সুরটেক) ক্যাম্পাসে জেআই এস ড্রোন একাডেমি – আরপিটিও’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করল। এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম এবং বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক, ডিজিসি এ-অনুমোদিত ‘রিমোট পাইলট ট্রেনিং অর্গানাইজেশন’ (আরপিটিও) এবং ইউ এ ভি (আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল) ইকোসিস্টেমের অন্যতম সহায়ক প্রতিষ্ঠান।
বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ওই একাডেমির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন জেআইএস গ্রুপের ডিরেক্টর সর্দার সীমারপ্রীত সিং, ডেপুটি ডিরেক্টর বিদ্যুৎ মজুমদার, এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এ এ আই), কলকাতার পূর্বাঞ্চলীয় শাখার জেনারেল ম্যানেজার (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) মহুয়া বি. অধিকারী, জয়েন্ট জিএম (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) সুমন চন্দ্র হালদার, জয়েন্ট জিএম (এটিএম) গৌতম রায়,ভারত সরকারের সি – ডিএসি-এর টিম লিড সঙ্গম কুমার চতুর্বেদী, ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের আঞ্চলিক প্রধান (পূর্বাঞ্চল) বিক্রম কুমার দাস।
এই মাইলফলকটি রাজ্যে প্রথম এবং বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক ডিজিসিএ-অনুমোদিত ‘রিমোট পাইলট ট্রেনিং সেন্টার’-এর সূচনাকে চিহ্নিত করে। এই কেন্দ্রে ‘মাইক্রো’ এবং ‘স্মল’ ক্যাটাগরির ড্রোনের জন্য ডিজিসিএ -অনুমোদিত ‘রিমোট পাইলট সার্টিফিকেট’ (আরপিসি) প্রোগ্রামগুলো পরিচালনা করা হবে। এই একাডেমিটি উন্নত ড্রোন প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন, গবেষণা, শিল্প-সহযোগিতার একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো লাইসেন্সপ্রাপ্ত ড্রোন পেশাজীবীদের একটি দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা।

অত্যাধুনিক পরিকাঠামো, পেশাদার মানের ড্রোন এবং উন্নত সিমুলেশন ব্যবস্থায় সুসজ্জিত এই একাডেমিটি একটি ‘হাইব্রিড’ প্রশিক্ষণ মডেল গ্রহণ করবে। এই মডেলে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, হাতে-কলমে উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ এবং শিল্প-ভিত্তিক শিক্ষার এক সমন্বিত রূপ থাকবে।পাশাপাশি ‘এডুরেড ‘এবং ‘মেঘ রোবটিক্স ’-এর সাথে শিল্প-সহযোগিতার সুযোগও রাখা হয়েছে।
জেআই এস ড্রোন একাডেমি ডিজিসিএ-অনুমোদিত ‘রিমোট পাইলট সার্টিফিকেট’ (আরপিসি) কোর্সের পাশাপাশি ড্রোন জরিপ ও ম্যাপিং, ড্রোন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোন ফরেনসিক, ড্রোন ডিজাইন ও ফ্যাব্রিকেশন, জিআইএস ডেটা প্রক্রিয়াকরণ এবং অ্যারো-মডেলিংয়ের মতো বিশেষায়িত প্রোগ্রামগুলোও অফার করবে। এই প্রোগ্রামগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে কৃষি, পরিকাঠামো উন্নয়ন, আকাশপথের জরিপ, ম্যাপিং, নজরদারি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস এবং সংবাদমাধ্যম—এমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ড্রোনের দ্রুত সম্প্রসারমান প্রয়োগগুলোকে কার্যকরভাবে সহায়তা করা যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএভি প্রযুক্তির বিভিন্ন প্রয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি বিশেষায়িত ড্রোনগুলোর সরাসরি প্রদর্শনীও স্থান পায়, যা ব্যবহারিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের ওপর এই একাডেমির বিশেষ গুরুত্বারোপকেই বিশেষভাবে তুলে ধরে।
এই প্রসঙ্গে জেআইএস গ্রুপের পরিচালক সর্দার সীমারপ্রীত সিং বলেন,’জেআইএস ড্রোন একাডেমির সূচনা একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ, যার মূল লক্ষ্য হলো আগামী প্রজন্মকে মনুষ্যবিহীন বিমান চালনা বা ‘আনম্যানড এভিয়েশন’ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের উপযোগী দক্ষতায় সমৃদ্ধ করা। জেআইএস গ্রুপ নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম বা পরিবেশ, যা সর্বদা পারস্পরিক সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাসী। যেহেতু ড্রোন প্রযুক্তি কৃষি ও পরিকাঠামো থেকে শুরু করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস এবং আরও বহু ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিল্পখাতকে প্রতিনিয়ত আমূল বদলে দিচ্ছে—তাই আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং শিল্পখাতের পারস্পরিক সহযোগিতা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকবে। ডিজিসিএ -অনুমোদিত এই ‘আরপিটিও’-এর মাধ্যমে আমরা দক্ষ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত ড্রোন পেশাজীবী গড়ে তুলতে এবং পশ্চিমবঙ্গের ইউএভি খাতের প্রবৃদ্ধিতে অর্থবহ অবদান রাখতে আশাবাদী।’






