আসানসোলে ‘মাতৃশক্তি’ ঘিরে রক্তারক্তি! বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ
তৃণমূলের মারে রক্তাক্ত বিজেপি কর্মী, নর্থ থানায় বিক্ষোভ প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখার্জির।
আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান: ভোটের প্রাক্কালে ফের উত্তপ্ত শিল্পাঞ্চল! আসানসোলের উত্তর কেন্দ্রের লালবাংলা এলাকায় ‘মাতৃশক্তি’ প্রকল্পের ফর্ম পূরণকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। অভিযোগ, বিজেপির ফর্ম পূরণের কর্মসূচি চলাকালীন হঠাৎই লাঠিসোঁটা নিয়ে চড়াও হয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় এক বিজেপি কর্মীকে রক্তাক্ত করার পাশাপাশি এক মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে।
বিজেপির দাবি, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শ্যাম সোরেনের নেতৃত্বে ২০-২২ জনের একটি বাহিনী অতর্কিতে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। লাঠি, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর জখম করা হয় বিজেপি কর্মী তেজ প্রতাপ সিংহকে। সবথেকে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন রাখি হাঁসদা নামে এক মহিলা বিজেপি কর্মী। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা তাঁর ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালায় এবং তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। শুধু তাই নয়, এলাকায় বিজেপির প্রচার চালালে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি। তিনি আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের ‘হিংসার রাজনীতি’র কড়া সমালোচনা করেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কৃষ্ণেন্দুবাবু বলেন, “তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে, তাই এখন ওরা মা-বোনদের ওপর হাত দিচ্ছে। পুলিশ সব দেখেও তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, যার ফলে এই দৌরাত্ম্য বাড়ছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে আসানসোল নর্থ থানার সামনে ঘেরাও ও বিক্ষোভ শুরু করেছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। ইতিমধ্যেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। আসানসোলের এই ‘মাতৃশক্তি’ বিতর্ক এখন লোকসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।





