ভুল সিদ্ধান্তই কি ডেকে আনল মৃত্যু? খারাপ আবহাওয়ায় জোর করে নামতে গিয়েই বিপত্তি
বুধবার ভোরে বারামতীর কাছে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময় লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর বিমানটি ভেঙে পড়ে।
Truth Of Bengal: বারামতীতে লিয়ারজেট দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তকারী সূত্রের মতে, খারাপ দৃশ্যমানতার মধ্যেই অবতরণের চেষ্টা এবং সেই সময়ে পাইলটের ভুল সিদ্ধান্ত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। পাশাপাশি, বিমানে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার ভোরে বারামতীর কাছে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময় লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর বিমানটি ভেঙে পড়ে। আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সকলের মৃত্যু হয়। বিমানে ছিলেন এনসিপি প্রধান ও মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ও সহকারী, পাশাপাশি ককপিটের দুই ক্রু— পাইলট-ইন-কমান্ড সুমিত কাপুর এবং ফার্স্ট অফিসার সম্ভাবী পাঠক।
তদন্তে যুক্ত এক আধিকারিকের দাবি, প্রথমবার অবতরণ বাতিল হওয়ার পর আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। সেই সময় বিমানটি চাইলে পুণে ঘুরিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু পাইলট বারামতীতেই দ্বিতীয়বার অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। তদন্তকারীদের মতে, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় অবতরণের সময় বিমানের অবস্থান ও গতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রানওয়ের সঙ্গে চোখে দেখা যোগাযোগ পাওয়ার পর পাইলট দেরিতে সংশোধনী পদক্ষেপ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অভিজ্ঞ পাইলটদের মতে, বারামতীর মতো নিয়ন্ত্রণহীন বা ক্লাস ‘জি’ বিমানবন্দরে খারাপ দৃশ্যমানতার মধ্যে অবতরণের চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সেখানে কোনও আধুনিক নেভিগেশনাল এইড নেই এবং পূর্ণকালীন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থাও অনুপস্থিত।
ডিজিসিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিজুয়াল ফ্লাইট রুলস অনুযায়ী এমন বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য কমপক্ষে ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমানতা থাকা জরুরি। বিশেষ ভিএফআর অনুমতিতে ৩ কিলোমিটার দৃশ্যমানতায় অবতরণ সম্ভব হলেও, দুর্ঘটনার সময় দৃশ্যমানতা ছিল সেই সীমার কাছাকাছি। তদন্তকারীদের অনুমান, এই সীমিত দৃশ্যমানতাই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-এর একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যেই বিমানের ব্ল্যাক বক্স—ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ওই দিন সকাল আটটা নাগাদ মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অজিত পাওয়ার। স্থানীয় স্বশাসন নির্বাচনের আগে নিজের শহরে একাধিক জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা চলাকালীনই ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে গভীর শূন্যতা। উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ তো বটেই, এনসিপির নেতৃত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে একজন প্রভাবশালী ও সক্রিয় রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্য।
তদন্ত শেষ হলে নিয়ন্ত্রণহীন বিমানবন্দরগুলিতে অবতরণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা নির্দেশিকা আরও কঠোর করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।


