দেশ

বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! জোহো-তে স্থানান্তরিত হল ১২ লক্ষ সরকারি কর্মীর ইমেল

একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীরা যেন আর ওপেন সোর্স সফটওয়্যারে প্রেজেন্টেশন, ওয়ার্ড ফাইল বা স্প্রেডশিট তৈরি না করেন, সেই লক্ষ্যেও জোহো সুইট চালু করা হয়েছে।

Truth Of Bengal: দেশীয় প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রী দফতর-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ১২ লক্ষ কর্মীর ইমেল অ্যাকাউন্ট এখন পুরোপুরি ভারতীয় সংস্থা জোহো কর্পোরেশনের ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে। গত এক বছরে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর।

আগে এই ইমেল পরিষেবা জাতীয় তথ্য বিজ্ঞান কেন্দ্র (NIC)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হত। তবে এখন থেকে .gov.in ও .nic.in ডোমেইন ঠিক থাকলেও, ব্যাকএন্ড পরিচালনা করবে জোহো। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীরা যেন আর ওপেন সোর্স সফটওয়্যারে প্রেজেন্টেশন, ওয়ার্ড ফাইল বা স্প্রেডশিট তৈরি না করেন, সেই লক্ষ্যেও জোহো সুইট চালু করা হয়েছে।

এই রূপান্তর ২০২৩ সালে জোহোকে দেওয়া সাত বছরের একচেটিয়া চুক্তির অংশ। উদ্দেশ্য, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমিয়ে এনে দেশীয় প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো। বিশেষ করে ২০২২ সালে এইইমস দিল্লির সাইবার হামলার পর, সরকার বিকল্প ও আরও সুরক্ষিত প্ল্যাটফর্ম খুঁজতে শুরু করে। তখন থেকেই জোহোর প্রতি সরকারের আগ্রহ বাড়তে থাকে।

শিক্ষামন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “জোহোর দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা স্বদেশি প্রযুক্তির পথে এক দৃঢ় পদক্ষেপ নিলাম। এর ফলে ভারতীয় উদ্ভাবন ও ডিজিটাল স্বনির্ভরতা আরও মজবুত হবে।”

নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। Software Quality Systems, NIC ও CERT-In-এর মাধ্যমে নিয়মিত অডিট করা হচ্ছে, যাতে তথ্য সুরক্ষা বজায় থাকে। জোহোর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু বলেন, “আমাদের ব্যবসার ভিত্তিই হলো বিশ্বাস – আমরা কখনো গ্রাহকের তথ্য ব্যবহার করি না বা তা বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করি না। খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনও চালু হবে।”

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ অনেক মন্ত্রী তাঁদের ব্যক্তিগত ইমেলের জন্য জোহো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার শুরু করেছেন, যদিও সরকারি যোগাযোগ এখনও সরকার নির্ধারিত ডোমেইনেই হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রকের ৩ অক্টোবরের নির্দেশে দেশের সব মন্ত্রক ও দফতরকে জোহোর টুলস ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে দেশের “প্রোডাক্ট নেশন”-এ রূপান্তরের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাবেক আইএএস অফিসার কেবিএস সিদ্ধু এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করে বলেন, “জোহোর দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। তবে তথ্যভান্ডার যেন ভারতের মাটিতে অবস্থিত এবং স্বাধীনভাবে নিরাপত্তা পরীক্ষিত হয়, সেটাই প্রধান শর্ত হওয়া উচিত।”

এখন জোহোর আরাট্টাই (Arattai) মেসেজিং অ্যাপ-সহ নানা প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারিভাবে এই স্বীকৃতি পেলে বেসরকারি খাতেও দেশীয় প্রযুক্তি গ্রহণের হার বাড়বে, যা ভারতের সাইবার সুরক্ষা ও প্রযুক্তি স্বাধীনতার পক্ষে বড় বার্তা।