Magnus Carlsen: দোহায় জোড়া খেতাব জিতে ২০তম বিশ্ব শিরোপা নরওয়ের ম্যাগনাস কার্লসেন
ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার অর্জুন এরিগাইসির কাছে হারের পর টেবিলে ঘুসি মারার ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়। পরে আর্মেনিয়ার হাইক এম মার্তিরোসিয়ানের বিরুদ্ধে ম্যাচে সময়ের চাপে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বোর্ডের ঘুঁটি উলটে ফেলেন কার্লসেন।
Truth of Bengal: শেষবেলায় এসে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে দাবার ইতিহাসের অন্যতম সেরা বলা হয়। দোহায় অনুষ্ঠিত ফিডে ব্লিটজ চেস বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে খেতাব জিতে নিলেন বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ু ম্যাগনাস কার্লসেন। টুর্নামেন্ট জুড়েই ওঠানামার মধ্যে দিয়ে গেলেও নকআউট পর্বে নিজেকে নতুন করে মেলে ধরে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরলেন নরওয়ের কিংবদন্তি।কার্লসেনের যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। ওপেন সুইস পর্বে একাধিক ম্যাচে অস্বাভাবিক আচরণের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার অর্জুন এরিগাইসির কাছে হারের পর টেবিলে ঘুসি মারার ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়। পরে আর্মেনিয়ার হাইক এম মার্তিরোসিয়ানের বিরুদ্ধে ম্যাচে সময়ের চাপে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বোর্ডের ঘুঁটি উলটে ফেলেন কার্লসেন। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘুঁটি ঠিক করে চাল দিতে না পারায় সেই ম্যাচে তাঁকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়।
তবে সেখান থেকেই শুরু হয় প্রত্যাবর্তনের গল্প। ১৪তম পর্বের পর টানা চারটি ম্যাচ জিতে লড়াইয়ে ফেরেন কার্লসেন। ১৯তম পর্বে ড্র করে কোনওক্রমে ওপেন ফাইনালে জায়গা করে নেন। নকআউটে পৌঁছনোর পর যেন অন্য কার্লসেন—সেমিফাইনালে ফাবিয়ানো কারুয়ানাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন তিনি। শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে উজবেকিস্তানের নোদিরবেক আবদুসাত্তোরোভকে ২.৫–১.৫ পয়েন্টে হারিয়ে ব্লিটজ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নেন কার্লসেন। এর আগে বিশ্ব র্যাপিড চ্যাম্পিয়নশিপেও খেতাব জিতেছিলেন তিনি। ফলে একই টুর্নামেন্টে র্যাপিড ও ব্লিটজ—দু’টি বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হলেন নরওয়ের গ্র্যান্ডমাস্টার। এই জয়ের ফলে কেরিয়ারে তাঁর মোট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাবের সংখ্যা দাঁড়াল ২০। যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ক্লাসিক্যাল, ছ’টি র্যাপিড এবং ন’টি ব্লিটজ খেতাব। ব্লিটজে এটি তাঁর নবম শিরোপা।
অন্যদিকে, ভারতীয় দাবার জন্যও দোহা অভিযান স্মরণীয় হয়ে থাকল। ২২ বছর বয়সি গ্র্যান্ডমাস্টার অর্জুন এরিগাইসি ব্লিটজ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন। সেমিফাইনালে নোদিরবেক আবদুসাত্তোরোভের কাছে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভাঙলেও তাঁর কৃতিত্ব কোনও অংশে কম নয়। এর আগে র্যাপিড বিভাগেও ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন অর্জুন। বিশ্বনাথন আনন্দের পর তিনিই দ্বিতীয় ভারতীয় দাবাড়ু, যিনি একই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে র্যাপিড ও ব্লিটজ—দু’টি বিভাগেই পদক জিতলেন। শেষবার ২০১৭ সালে বিশ্বনাথন আনন্দ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। সেই বছর আনন্দ র্যাপিডে চ্যাম্পিয়ন ও ব্লিটজে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন। আট বছর পর সেই নজির ছুঁয়ে দোহা থেকে জোড়া পদক নিয়ে ফিরছেন তেলেঙ্গানার গ্র্যান্ডমাস্টার অর্জুন এরিগাইসি।শুধু তাই নয়, মহিলা বিভাগেও ভারতের সাফল্য এসেছে। বিশ্ব র্যাপিড চ্যাম্পিয়নশিপে অভিজ্ঞ কোনেরু হাম্পি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। ফলে দোহায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ভারত ফিরছে মোট তিনটি পদক নিয়ে।মহিলা ব্লিটজ বিভাগে তৃতীয়বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হলেন কাজাখস্তানের বিবিসারা আসাউবায়েভা। ফাইনালে চিনের ঝু জিনেরকে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা দখল করেন তিনি।
টুর্নামেন্ট শেষে ফিডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লসেন বলেন,কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু নকআউটে পৌঁছনোর পর মনে হয়েছিল, চাপটা কাঁধ থেকে নেমে গেছে। তখনই বিশ্বাস জন্মায়—আমি পারব। শেষ পর্যন্ত সেটাই করে দেখালেন ম্যাগনাস কার্লসেন । সমালোচনা, বিতর্ক আর ব্যর্থতার মাঝখান থেকে উঠে এসে আবারও প্রমাণ করলেন, চ্যাম্পিয়নদের কখনও হালকাভাবে বিচার করা যায় না।



