ধর্মতলায় চরম নিষেধাজ্ঞা! তবুও ২১ জুলাই ‘শহিদ দিবস’ করতে মরিয়া মমতা ও ঋতব্রত শিবির
ধর্মতলায় ৬০ দিনের ১৪৪ ধারা! ২১ জুলাই কি তবে হাজরা মোড়ে মমতার ‘শহিদ দিবস’? তোলপাড় কলকাতা!
Truth of Bengal: কলকাতা পুলিশের জারি করা ৬০ দিনের ১৪৪ ধারার জেরে ধর্মতলায় শহিদ দিবসের সভা করার রাস্তা কার্যত বন্ধ। কিন্তু তা সত্ত্বেও আগামী ২১ জুলাই ‘শহিদ দিবস’ পালন করতে অনড় মমতাপন্থী বা কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। জোর গলায় ওই শিবিরের নেতারা বলছেন, যত বাধাই আসুক, ২১ জুলাইয়ের মেগা কর্মসূচি হবেই। পিছিয়ে নেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরও। তবে সমাবেশ ঠিক কোথায় হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষেই চরম ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। এরই মাঝে বুধবার দক্ষিণ কলকাতার মহারাষ্ট্র নিবাস হলে এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মিসভা থেকে ২১ জুলাই সকালে হাজরা মোড়ে বিশাল জমায়েতের ডাক দিয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল।
চন্দ্রিমাদেবীর উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই কর্মীসভায় হাজির ছিলেন বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র ও রাজ্যসভা সাংসদ দোলা সেনরা। সভা শেষে দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় সাফ জানান, “ওরা আমাদের শহিদ তর্পণ করতে দেবে না, এটা আমরা কোনওভাবেই মেনে নেব না। জমায়েত হবেই।” একই সুর শোনা গিয়েছে সাংসদ দোলা সেনের গলাতেও। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি আমৃত্যু শহিদ দিবস পালন করবেন। আমরা আইন মেনেই কর্মসূচি করব।” তবে উত্তর কলকাতার জন্য অন্য একটি কর্মিসভা থেকে সম্ভবত হেদুয়ার মোড়েও সমান্তরাল জমায়েতের ডাক দেওয়া হতে পারে বলে খবর।
এই মেগা সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও, গ্রেফতারির আশঙ্কাও দানা বাঁধছে। শ্রীরামপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “২১ জুলাইয়ের আগেই আমাকে বা কর্মীদের সংগঠিত করা নেতাদের পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে। কিন্তু গ্রেফতার করে কতজনকে আটকাবে?” প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, এতদিন বসে থাকা কর্মীরা এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগাযোগ করছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের আদালতের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তা আটকে সভা করার অভিযোগে সম্প্রতি হাই কোর্ট তৃণমূলকে কড়া নোটিশ পাঠিয়েছে। তার ওপর ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এখনও ‘জল মাপছেন’ বলে দলীয় সূত্রের খবর। সরাসরি প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে যাওয়া ঠিক হবে কি না, নাকি বিকল্প হিসেবে ব্রিগেডকে ভাবা হবে, তা নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে আলোচনা চালাচ্ছেন তিনি। তবে ব্রিগেডের মতো বিশাল মাঠে লোক কম হলে সংগঠনের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে যাবে, সেই ভয়ও রয়েছে নেতাদের মনে। অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের সন্দীপন সাহা জানিয়েছেন, তাঁরাও এই সপ্তাহের মধ্যে বৈঠক করে চূড়ান্ত করবেন যে প্রশাসনের সঙ্গে কোনও সংঘাত ছাড়াই ঠিক কোথায় তাঁরা ২১ জুলাইয়ের পাল্টা কর্মসূচি করবেন।






