দেশ

সিকিমে প্রথমবার ক্যামেরাবন্দি বিলুপ্তপ্রায় ইউরেশিয়ান লিংক্স

জানা গিয়েছে, রাজ্যের বন ও পরিবেশ দফতর এবং ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়া-র যৌথ উদ্যোগে স্নো লেপার্ড পর্যবেক্ষণের জন্য ওই এলাকায় একাধিক ফাঁদ ক্যামেরা বসানো হয়েছিল।

Truth of Bengal: সিকিমের পাহাড়ে এই প্রথম ক্যামেরাবন্দি হল বিলুপ্তপ্রায় বনবিড়াল প্রজাতির প্রাণী ইউরেশিয়ান লিংক্স। উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলার প্রায় ৫ হাজার ২৫০ ফুট উচ্চতার তুষারাবৃত তসো লামো এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর সময় বিরল এই প্রাণীর ছবি ধরা পড়েছে একটি ফাঁদ ক্যামেরায়।

জানা গিয়েছে, রাজ্যের বন ও পরিবেশ দফতর এবং ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়া-র যৌথ উদ্যোগে স্নো লেপার্ড পর্যবেক্ষণের জন্য ওই এলাকায় একাধিক ফাঁদ ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। সেই ক্যামেরাতেই ধরা পড়ে ইউরেশিয়ান লিংক্সের উপস্থিতি। এর আগে ২০২৫ সালে অরুণাচল প্রদেশে প্রথমবার এই প্রাণীর ছবি ক্যামেরাবন্দি হয়েছিল। এবার সিকিমে তার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় পূর্ব হিমালয়ে এই বিরল প্রজাতির বিস্তৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এল। সিকিমের প্রধান বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী) উদয় গুরুং জানান, তসো লামো এলাকায় ইউরেশিয়ান লিংক্সের উপস্থিতি আলোকচিত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। অন্যদিকে, ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়ার হিমালয় কর্মসূচির প্রধান ঋষিকুমার শর্মা বলেন, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে পূর্ব হিমালয়ে ইউরেশিয়ান লিংক্সের উপস্থিতি শুধুই জনশ্রুতি নয়, বাস্তব। ছবিতে ধরা পড়া প্রাণীটির কানের উপরে ঘন লোমগুচ্ছ, ছোট লেজ এবং মাঝারি আকৃতির দেহ স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেশিয়ান লিংক্স অত্যন্ত ঠান্ডা ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসে অভিযোজিত একটি বিরল বনবিড়াল প্রজাতি।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরে সিকিমের বন ও পরিবেশ দফতর এবং ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়া যৌথভাবে উত্তর সিকিমের উচ্চ পার্বত্য তৃণভূমি ও তুষার চিতার আবাসভূমিতে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রকল্পের আওতায় বসানো ফাঁদ ক্যামেরায় ইতিমধ্যেই স্নো লেপার্ড, প্যালাসের বিড়াল, তিব্বতি নেকড়ে, তিব্বতি স্যান্ড ফক্স, তিব্বতি গেজেল, তিব্বতি আরগালি এবং সাউদার্ন কিয়াং-এর মতো একাধিক বিরল বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে।

 

Related Articles