আরও বিপাকে দেবরাজ! বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে তদন্তে ইডি
অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেল থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার দেবরাজ! এবার ১০০ কোটির সম্পত্তি খতিয়ে দেখতে নামছে ইডি
Truth of Bengal: আর্থিক অনিয়ম ও জমি দখলের মামলায় বাগুইআটি এলাকার একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর শেষরক্ষা হলো না। বুধবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলি এলাকার একটি হোটেল থেকে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গল এসটিএফ ও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ টিম। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে এই ঝোড়ো অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার ভোরেই তাঁকে বাগুইআটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে রাজ্য পুলিশের লকআপে থাকা দেবরাজের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে এবার এই মামলায় এন্ট্রি নিচ্ছে ইডি। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, দেবরাজের বিপুল আর্থিক লেনদেনের খতিয়ান দিল্লিতে রিপোর্ট আকারে পাঠানো হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই তাঁর বিরুদ্ধে নতুন ইসিআইআর (ECIR) বা মামলা রুজু করতে চলেছে ইডি।
ভোটের আগেই ১০০ কোটির বেনামি সম্পত্তি হস্তান্তর! অদিতির ছাড় মিললেও ফঁসলেন দেবরাজ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, ভোটের ঠিক মুখে নিজেদের কালো টাকা ঢাকতে আত্মীয় ও পরিচিতদের নামে অন্তত ১০০ কোটি টাকার বেনামি সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন এই দম্পতি। এমনকি নির্বাচনী হলফনামাতেও অদিতির সম্পত্তির পরিমাণ অনেক কম করে দেখানো হয়েছিল। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল রাজারহাট-নিউটাউন এলাকার সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজির ভুরি ভুরি অভিযোগ।
গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় দম্পতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আইনি রক্ষাকবচ ও আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। আদালত তাঁদের ৪ মাসের এক দুগ্ধপোষ্য সন্তানের কথা বিবেচনা করে গায়িকা অদিতি মুন্সিকে আগাম অন্তর্বর্তী জামিন দিলেও, স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর আবেদন সটান খারিজ করে দেয়। আদালত দেবরাজকে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিলেও তিনি সটান পুরুলিয়ায় গিয়ে গা ঢাকা দেন।
বাগুইআটির ‘ডন’-এর পতন, চরম উদ্বেগে জোড়াফুল শিবির
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দেবরাজ চক্রবর্তীর এই পতন বিধাননগর ও রাজারহাট চত্বরের ঘাসফুল শিবিরের সংগঠনে এক মস্ত বড় ধাক্কা। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবরাজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ তাঁর বৈধ আয়ের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভিন রাজ্যেও দেবরাজের কোনো বেনামি বিনিয়োগ রয়েছে কি না, তা এবার ইডির স্ক্যানারে। রাজ্য পুলিশের লকআপ থেকে এবার দেবরাজের ঠিকানা সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স হতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





