কলকাতারাজ্যের খবর

এল নিনোর বাধা কাটিয়ে সক্রিয় মৌসুমী বায়ু, চলতি সপ্তাহের শেষেই ভিজবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আগামী শুক্রবারই একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে।

Truth of Bengal: জুন মাসের বৃষ্টির ঘাটতি মেটাতে জুলাইয়ের শুরুতেই দক্ষিণবঙ্গে তেড়ে বৃষ্টি নামতে চলেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার জেরে চলতি উইকএন্ড বা সপ্তাহের শেষেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃষ্টি জুনের খরা কাটিয়ে স্বস্তি দিতে পারে রাজ্যবাসীকে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আগামী শুক্রবারই একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। এর পাশাপাশি, কাশ্মীর থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এই জোড়া ফলার প্রভাবে শুক্রবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের সবকটি জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে। শনিবারও এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে, তবে বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

রবিবার বৃষ্টির দাপট আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। ওই দিন কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। অন্যদিকে, উপকূল ও সংলগ্ন জেলা অর্থাৎ দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির লাল বা কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে জুলাইয়ের শুরুতেই দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের জুনে দেশজুড়ে বর্ষার পারফরম্যান্স বেশ হতাশাজনক ছিল। আইএমডি (IMD)-র পরিসংখ্যান বলছে, জুনে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১৬৫.৪ মিলিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে হয়েছে মাত্র ৯৯.৫ মিলিমিটার, যা প্রায় ৪০ শতাংশ কম। গত ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে বর্ষা সময়মতো এসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি দিলেও, ২০২৬-এ বাধ সেধেছে ‘এল নিনো’ (El Nino)। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বিপুল ঘাটতি মেটাতে জুলাইয়ে ৩৪৬.৩ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। অতিরিক্ত বৃষ্টির স্বাভাবিক পূর্বাভাস না থাকলেও, বঙ্গোপসাগরের এই নতুন নিম্নচাপটিই এখন দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির ঘাটতি মেটানোর প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Articles