দেশ

PM Modi Christmas Prayer: রাইসিনা হিলসে মোদি! বড়দিনের সকালে ক্যাথিড্রাল চার্চে প্রার্থনা সারলেন প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার সকালে চার্চের বিশেষ প্রার্থনা সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি দেশবাসীকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান।

Truth of Bengal: নয়াদিল্লির রাইসিনা হিলসে অবস্থিত ঐতিহাসিক ক্যাথিড্রাল চার্চ অফ দ্য রিডেম্পশনে বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার সকালে চার্চের বিশেষ প্রার্থনা সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি দেশবাসীকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান। প্রার্থনা, ক্যারল এবং স্তোত্রপাটের মাধ্যমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের এক অনন্য প্রতিফলন হিসেবে ধরা দিয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই গির্জাটি তার চমৎকার গথিক স্থাপত্য এবং শান্ত পরিবেশের জন্য পর্যটক ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অফ ইন্ডিয়া আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। উপস্থিত ছিলেন কার্ডিনাল, বিশপ এবং গির্জার বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, এই প্রথম দেশের প্রধানমন্ত্রী ক্যাথলিক চার্চের সদর দপ্তরে আয়োজিত কোনো কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ চার্চের কিছু ছবি শেয়ার করে লেখেন যে বড়দিনের সকালের এই প্রার্থনা সভা ভালোবাসা, শান্তি ও দয়ার এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। বড়দিনের এই চেতনা সমাজে সম্প্রীতি ও সদিচ্ছা বজায় রাখতে সকলকে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নয়াদিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ক্যাথিড্রালটি নিও-গথিক স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। ১৯২৭ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে লাল ও সাদা ইটের সমন্বয়ে এই অপূর্ব গির্জাটি তৈরি করা হয়েছিল। সংসদ ভবন এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের ঠিক পূর্ব দিকে অবস্থিত এই চার্চটি একসময় ব্রিটিশ ভাইসরয়রা ব্যবহার করতেন। লর্ড আরউইনের শাসনকালে এটি নির্মিত হওয়ায় একে ভাইসরয় চার্চ নামেও অভিহিত করা হয়। বর্তমানে এটি চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার দিল্লি ডায়োসিসের প্রধান গির্জা হিসেবে পরিচিত।

স্থপতি হেনরি মেড এই ভবনটির নকশা তৈরি করেছিলেন। গির্জার সুউচ্চ চূড়া এবং কারুকার্যময় সামনের অংশটি সেই সময়ের নিখুঁত স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় দেয়, যা মূলত ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী গির্জাগুলোর আদলে তৈরি। এই ক্যাথিড্রালের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রোটেস্ট্যান্ট এবং রোমান ক্যাথলিক উভয় মতাদর্শের উপাদান ও চিন্তাধারার সমন্বয় ঘটিয়েছে। জানা যায়, ভেনিসের প্যালাডিওর চার্চ অফ ইল রিডেন্টোর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই গির্জার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্মাণ করা হয়েছে।

Related Articles