কলকাতা

SSC Recruitment Scam: এসএসসি দুর্নীতি তদন্তে অগ্রগতি, পার্থের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হিসেবে হাজির থাকছেন আধিকারিক

অন্যদিকে, এই মামলার বিচারপর্বে এদিন অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

Truth of Bengal: এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার এক অভিযুক্ত আধিকারিককে ‘রাজসাক্ষী’ বা অ্যাপ্রুভার করার কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। শুক্রবার আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতে এই মামলার বিচার চলাকালীন বিষয়টি উঠে আসে। জানা গিয়েছে, এই অভিযুক্ত আধিকারিকের নাম সমরজিৎ আচার্য, যিনি এসএসসি-র একজন কর্তা ছিলেন। এদিন বিচারক সরাসরি সিবিআইয়ের বিশেষ আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি সমরজিৎ আচার্যকে রাজসাক্ষী করবেন?” জবাবে সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেন, “দেখছি।” মামলার তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রমাণ সংগ্রহের স্বার্থেই সিবিআই এই পদক্ষেপের কথা ভাবছে বলে সূত্রের খবর। এর আগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দায়ের করা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামাইকে রাজসাক্ষী করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, এই মামলার বিচারপর্বে এদিন অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। জানা গেছে, ওই সাক্ষী হলেন এসএসসি-র একজন আধিকারিক, যিনি কম্পিউটার অপারেটরদের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি প্রদীপ সিং নামে এক এজেন্টকে চিনতেন, যার ডাকনাম ছিল ‘ছোট্টু’। এই প্রদীপ সিং আবার নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রসন্ন রায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ওই সাক্ষী আদালতকে জানান, প্রদীপ সিং (ছোট্টু)-ই অভিযুক্ত সমরজিৎ আচার্যকে প্রার্থীদের তালিকা ইমেলের মাধ্যমে পাঠাতেন। সেই তালিকা সমরজিৎ আচার্য আবার তাঁর কাছে (সাক্ষীর কাছে) পাঠাতেন। সেই তালিকা এদিন আদালতে সাক্ষীকে দেখানো হয়। সোমবার পর্যন্ত এই সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব চলবে।

আদালতের নির্দেশে এই সাক্ষ্যদান পর্ব শেষ হওয়ার পরই হয়তো জেল থেকে মুক্তি পেতে পারেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, যিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সূত্রের খবর, মুক্তি পেলে তিনি বাড়িতেই ফিরতে চান।

বিচার চলাকালীন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। যেদিন বোর্ড থেকে নিয়োগপত্র এসএসসি দফতরে প্রার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছিল, সেদিন এসএসসি-র প্রাক্তন কর্তা শান্তিপ্রসাদ সিংহ উপস্থিত সাক্ষীদের এজেন্ট প্রদীপ সিংয়ের নম্বর দেন। শান্তিপ্রসাদ নির্দেশ দিয়েছিলেন, চাকরিপ্রার্থীদের তরফ থেকে কোনো রকম গোলমাল বা সমস্যা তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে যেন প্রদীপ সিং ওরফে ‘ছোট্টু’-কে ফোন করা হয়। এই ঘটনা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাইরের প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত দেয়।

Related Articles