খেলা

সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার পরও শুভমন কঠিন পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয় : গম্ভীর

সেই পাহাড় প্রমাণ চাপই ২৬ বছর বয়সী শুভমনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে।

Truth Of Bengal: ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের কথায় একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, সেটা হল ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হওয়া এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর চাপ প্রায় সমান। সেই পাহাড় প্রমাণ চাপই ২৬ বছর বয়সী শুভমনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে। যা অনেকটা ‘গভীর সমুদ্রে’ নিক্ষেপ হওয়ার মতনই।

এই প্রসঙ্গে শনিবার নয়া দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের লাঞ্চের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গৌতি বলেন, ‘ইংল্যান্ড সফরের জন্য যখন টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শুভমনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, তখন ওকে বলেছিলাম এই দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া মানেই মনে কর, তোমাকে গভীর সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হয়েছে। সেই সময় নিজেকে বাঁচতে হয় তুমি সাঁতার কেটে নিজের প্রাণ রক্ষা কর, নতুবা জলে ডোবা ছাড়া আর উপায় নেই।’

এরপরই গৌতির কাছে জানতে চাওয়া হয়, এমন মরণ-বাঁচন পরীক্ষায় কি সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন আজকের শুভমন? কি মনে হয় আপনার? এই প্রসঙ্গে গৌতি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ছিল শুভমনের কাছে অনেকটা অ্যাসিড টেস্টে সম্মুখীন হওয়ার মত। কেননা একে তো দলের গুরু দায়িত্ব, তারপর আবার নতুন পজিশনে ব্যাটিং করা। দুটি গুরু দায়িত্বই ওকে পালন করতে হয়েছিল। এবং শুভমন সেই কঠিন পরীক্ষায় দায়িত্ব নিয়ে সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তারপরই ওকে বলেছিলাম, জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় তুমি উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছ। তার প্রমাণ তো শুভমনের ব্যাটিং। প্রায় সাড়ে সাতশোর ওপর রান করেছে গিল। না হলে ওই অবস্থায় সিরিজ ড্র করা সম্ভব হত না।’

টিম ইন্ডিয়ার নতুন অধিনায়ক সম্বন্ধে বলতে দলের  কোচ হিসেবে গম্ভীরের আরও সংযোজন, ‘আমার মনে হয় গত ইংল্যান্ড সিরিজটা শুভমনের কাছে অত্যন্ত কঠিন ছিল। এরপর ও যত বছর ধরেই দলকে নেতৃত্ব দিক না কেন এইরকম চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা ওকে আর করতে হবে বলে আমার মনে হয় না।’

সবশেষে গম্ভীর বলেন, ‘শুভমন প্রমাণ করে দিয়েছে যে কোনও পরিস্থিতিতে কঠিন চাপ সামলাতে ও কতটা তৈরি। এখন সব কিছুই ওর পক্ষে যাচ্ছে, কিন্তু যখন ওর পক্ষে যাবে না, তখন শুভমন কিভাবে চাপগুলি সামাল দেয় সেটাই দেখতে চাই। তবে একটা কথা না বলে পারছি না, আমি সবসময়ই শুভমনের পাশে থাকব। আর একটা কথা, সেটা কথা সেটা হল, সমালোচকদের মাথায় রাখা উচিত, শুভমনের বয়সটা কত। এই বয়সের একটা বাচ্চা ছেলে সবসময়ই যে অর্ধ্বশত রান করবে, ম্যাচ জেতাবে সেটা সম্ভব নয়। ওকে ওর মত খেলতে দিন।’

 

Related Articles