কলকাতা

সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতার প্রাক্তনীদের সমাজসেবামূলক কর্মসূচি

অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশন তাদের প্রধান সমাজসেবামূলক উদ্যোগ এর মাধ্যমে সমাজের প্রতি তাদের অঙ্গীকার আরও একবার দৃঢ় করলো

রাহুল চট্টোপাধ্যায়: সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ (কলকাতা) অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশন (এস এক্স সি সি এ এ)-এর উদ্যোগে ‘রিপলস অফ হোপ ‘– শীর্ষক মাসিক সমাজসেবা মূলক কর্মসূচি পালিত হলো আশাবাড়ি তে। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ (কলকাতা) অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশন তাদের প্রধান সমাজসেবামূলক উদ্যোগ এর মাধ্যমে সমাজের প্রতি তাদের অঙ্গীকার আরও একবার দৃঢ় করলো। ওই মাসিক সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগণার নেপালগঞ্জে অবস্থিত আশাবাড়ি (ক্যালকাটা হোম অফ হোপ) তে একটি পরিদর্শন ও সহায়তা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে ।সংস্থার সভাপতি তথা কলেজের অধ্যক্ষ রেভারেন্ড ড. ডমিনিক স্যাভিও, এসজে-এর নেতৃত্ব-এ অনুপ্রাণিত হয়ে এই উদ্যোগের লক্ষ্য সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও অবহেলিত মানুষের কাছে সহানুভূতি, মর্যাদা এবং যত্ন পৌঁছে দেওয়া।

ওই সমাজ কল্যাণমূলক কর্মসূচিটি হল প্রাক্তনীদের সংগঠনের একটি ধারাবাহিক সমাজসেবামূলক মঞ্চ, যা প্রাক্তনীদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে—যেমন অনাথ আশ্রম ও বৃদ্ধাশ্রম পরিদর্শন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তা, মহিলাদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি। গত কয়েক মাসে এই উদ্যোগ শতাধিক মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আশাবাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগণায় অবস্থিত একটি আশ্রয়স্থল। যেখানে অসুস্থ, গৃহহীন ও পথ থেকে উদ্ধার হওয়া অসহায় মানুষদের আশ্রয়, চিকিৎসা, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ১০০ জন আবাসিক রয়েছেন। সেখানে প্রতি সপ্তাহে একটি বিনামূল্যের আউটডোর ক্লিনিক পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপভোক্তা ও প্রাক্তনীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেভারেন্ড ড. ডমিনিক স্যাভিও এস জে বলেন, ‘রিপলস অফ হোপ’ শুধুমাত্র একটি উদ্যোগ নয়—এটি মূল্যবোধের প্রতিফলন এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বের প্রতীক। প্রতিটি সফর আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ছোট ছোট মানবিক কাজও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আশাবাড়িতে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা প্রতিটি মানুষকে অনুভব করাতে চায় যে তারা গুরুত্বপূর্ণ, যত্নপ্রাপ্ত এবং সম্মানিত’। এস এক্স সি সি এ এ -এর সম্পাদক সঞ্জীব কোনারের নেতৃত্বে দলের সদস্যরা আশাবাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, পোশাক, স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত সামগ্রী, শয্যাসামগ্রী বিতরণ করেন। এই সমস্ত সামগ্রী প্রাক্তনী সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের আর্থিক ও উপকরণগত অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।এই উদ্যোগের মূল বার্তা হল—ছোট অবদানও বড় পরিবর্তন আনতে পারে, যা মানুষের জীবনে মর্যাদা ও আশার আলো ফিরিয়ে দেয়। ওই সমাজ সেবামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনটি আবারও প্রমাণ করল যে সম্মিলিত সহানুভূতি সমাজে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সক্ষম এবং কেউই যেন পিছিয়ে না পড়ে।