রাজ্যের খবর

শান্তিনিকেতনে নাবালিকা নির্যাতন কাণ্ডে উত্তাল এলাকা, থানার সামনে বিক্ষোভ পরিবারের

ঘটনাটি দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল বলে অভিযোগ, যদিও তা প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি।

সৌতিক চক্রবর্তী, শান্তিনিকেতন: বীরভূমের শান্তিনিকেতনে নাবালিকা নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্রমশ তীব্র আকার নিচ্ছে উত্তেজনা। বুধবার সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, যেখানে একটি হোমে থাকা এক নাবালিকাকে দীর্ঘদিন ধরে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। অভিযোগের তির হোমের এক সিকিউরিটি গার্ডসহ বাইরের কয়েকজনের দিকে। পরিবারের দাবি, লাভপুর এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকাকে পারিবারিক সমস্যার কারণে কিছুদিন আগে শান্তিনিকেতনের একটি হোমে রাখা হয়। সেখানেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই সুযোগ নিয়ে বারবার তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। ঘটনাটি দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল বলে অভিযোগ, যদিও তা প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি।

ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়ে যখন অভিযোগ জানাতে গিয়ে পরিবারকে একাধিক প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয় বলে দাবি ওঠে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বোলপুর মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং এক থানা থেকে অন্য থানায় ঘোরানো হয়েছে, ফলে বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এরপর বৃহস্পতিবার বীরভূমে ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তিনিকেতন থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে এবং নিরপেক্ষভাবে পুরো ঘটনার তদন্ত করতে হবে।
শুক্রবার সেই বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পরিবার ও স্থানীয়দের একাংশ শান্তিনিকেতন থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদে সামিল হন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ধরনের গুরুতর অভিযোগে প্রশাসনের প্রাথমিক ভূমিকা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তারা।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতন থানা চত্বরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী। যদিও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা, তদন্তের অগ্রগতি এবং নাবালিকার নিরাপত্তা—সবকিছু নিয়েই বাড়ছে উদ্বেগ। ভোটের আবহে এমন একটি সংবেদনশীল ঘটনা সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। তবে স্থানীয়দের একটাই দাবি—দোষীদের দ্রুত শাস্তি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

Related Articles