রাজ্যের খবর

খুদে ঢাকি, খুদে পুরোহিত, খুদে ভক্ত! টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে জমজমাট পুজো

প্রথমে আপত্তি করলেও ছেলের জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়।

Truth Of Bengal: মাধব দেবনাথ,নদিয়া: স্কুলের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে পুজো করছে নদিয়ার (Nadia) কৃষ্ণগঞ্জের অনিলস্মৃতি হাইস্কুলের পড়ুয়া।ছোট্ট অঙ্কুশ বিশ্বাস,দুর্গা পুজো করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। যেখানে খুদে পুজো আয়োজকের মতোই পুরোহিতও ঢাকিও নাবালক। কেন এই পুজোর কথা ভাবল খুদে? অঙ্কুশ জানিয়েছে, একটা সময় সে মনে মনে ঠিক করে বাড়িতে দুর্গাপুজো করবে। সেই মতো টিফিনের বাঁচানো দশটাকা সম্বল করে বন্ধুর হাত ধরে চলে যায় প্রতিমা বায়না করতে। বন্ধুর থেকে এক টাকা নিয়ে ১১ টাকা দিয়ে প্রতিমা বায়না করে সে। এতদূর পর্যন্ত কেউই কিছু জানত না। দিন সাতেক আগে অঙ্কুশ বুঝতে পারে বাড়িতে না জানিয়ে পুজোর আয়োজন করা অসম্ভব। তখনই মাকে সবটা খুলে বলে। প্রথমে আপত্তি করলেও ছেলের জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়। এরপর বাবা, মা, ঠাকুমা, ঠাকুরদা সকলে অঙ্কুশের পাশে দাঁড়ান। সেই মতো শুরু হয় আয়োজন।

বাবা-মা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। তবে ছোট্ট অঙ্কুশ বিশ্বাসের প্রতিমা থেকে পুরোহিত, সবটাই ছোট্ট। আর তার এই আয়োজনে মেতে উঠেছে পরিবার-প্রতিবেশীরা।খুদে প্রতিমা, খুদে ব্রাহ্মণ, খুদে ঢাকি নিয়েই শুরু হয়েছে দুর্গা পুজো ।টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে পুজোর আয়োজন ক্ষুদে পড়ুয়ার । ঘটনা নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বাজার এলাকায় । স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণগঞ্জ অনিলস্মৃতি হাই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র অঙ্কুশ বিশ্বাস সে মনে মনে বাড়িতে দুর্গাপূজার করবে বলে ঠিক করে । ইস্কুলে গিয়ে টিফিনের সময় দুই বন্ধু মিলে চলে যায় পাল বাড়িতে । সেখানে গিয়ে একটি ছোট দুর্গা প্রতিমা বাইনা করে অঙ্কুশ । অঙ্কুশের হাতে ছিল দশ টাকা । যে বন্ধুকে নিয়ে গিয়েছিল প্রতিমার বায়না দিতে তার কাছ থেকে এক টাকা নিয়ে ১১ টাকা দিয়ে প্রতিমা বায়না দিয়ে আসে খুদে অঙ্কুশ । পরিবারের কেউই সেটা জানতে পারেনি । দিন সাতেক আগে যখন অঙ্কুশ দেখে বাড়িতে না বললে পুজোটা করা অসম্ভব হয়ে যাবে তখন তার মাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে । মা প্রথমে আপত্তি করলেও ছোট ছেলের জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় । পরিবারের  দাদু দিদিমা সবাই অঙ্কুশের মনের ইচ্ছাকে পূরণ করবার জন্য এগিয়ে আসে । পুজো করতে গেলে পুরোহিত লাগবে এজন্য অঙ্কুশ সিদ্ধান্ত নেয় ঠাকুর ছোট সে নিজে ছোট তার পুরোহিত হবে ছোট ।(Nadia)

পুজো করবার জন্য দুটো খুদে পুরোহিত যোগাড় করে । সমস্ত ঠিকঠাক হওয়ার পর ঢাকির অভাব । ঢাকি জোগাড় করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি মন্দির থেকে অঙ্কুশকে পুজো করবার জন্য পুরোহিত মন্দিরের একটি ঢাক দেয় । সেই ঢাক নিজে বাজাচ্ছে অঙ্কুশ । যথারীতি বড় পূজোর ক্ষেত্রে যেমন পুরো নিয়মাবলী লেখা থাকে অঙ্কুশ তার নিজের হাতে একটি বোর্ডের মধ্যে পূজার সমস্ত সময়সূচী লিপিবদ্ধ করেছে । গতকাল ষষ্ঠীর পর আজ সকালবেলায় মাথাভাঙ্গা নদীতে কলা বউ স্থান করিয়ে নিয়ে এসে সকাল থেকেই সপ্তমী পূজা শুরু করেছে ।পাড়া-প্রতিবেশীরা আসছে অঙ্কুশের এই পুজো দেখতে । অঙ্কুশের বাবা অজয় বিশ্বাস পেশায় একটি ছোট দোকানদার। তিনি বলেন প্রথম দিকে আমাদের আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ছেলের জেদের কাছে আমরা হেরে গিয়েছি ,বাধ্য হয়ে আমরা এই পূজোর সাথে নিজেদের যুক্ত করেছি । বাড়ির বাইরের রাস্তার ধারের বারান্দায় ছোট্ট প্যান্ডেলের মধ্যে খাই পেয়েছে ক্ষুদে দুর্গা । সমস্ত আয়োজন ও  যোগাযোগ কিভাবে হয়ে গেল সেটাও বুঝতে পারছি না । তবে তিনি এটাও বলেন ভগবানই ভরসা । ভগবান যদি না থাকতেন এই কাজ কোনমতেই সম্ভব হতো না । খুদে পরুয়ার পূজা দেখতে সকাল থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় মানুষজন । বলা যেতেই পারে খুদে ঠাকুর, খুদে ব্রাহ্মণ, খুদে ঢাকি খুদে কে নিয়েই একাকার কৃষ্ণগঞ্জের বিশ্বাস পরিবার।(Nadia)

Related Articles