Jugal Kishore: চূর্ণী নদীর বাঁধানো ঘাটে যুগলকিশোর মন্দিরে হাওয়ায় মিশে থাকে রাধাকৃষ্ণর নাম
পাশাপাশি শিল্প গবেষকদের কাছে এই মন্দির অতীব আকর্ষণীয়।
Truth of Bengal: প্রেমের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শ্রীরাধিকা ও শ্রীকৃষ্ণর নাম। এমনই এক রাধাকৃষ্ণর মিলনের সাক্ষী আড়ংঘাটার যুগলকিশোর মন্দির। কলকাতা থেকে সড়ক পথে প্রায় ৮২ কিলোমিটার দূরে রানাঘাট-গেদে রেলপথে রানাঘাট থানা এলাকায় অবস্থিত আড়ংঘাটা স্টেশন। স্টেশন থেকে কিছু দূর হেঁটে গেলেই চূর্ণী নদীর পাড়ে বাঁধানো ঘাট। সেই ঘাটের ওপরই রয়েছে যুগলকিশোর মন্দির। পূর্বমুখী ৫ খিলানযুক্ত মন্দিরে পরপর রয়েছে ৫টি ফুলকাঠা প্রকোষ্ঠ। মাঝখানের প্রকোষ্ঠে রয়েছে গোপীনাথ ও শ্রীরাধিকার যুগল মূর্তি। যুগলকিশোরের স্থান সিংহাসনে। পুরো পরিবেশকে আলোকিত করে রাখে। কালাচাঁদ-শ্যামচাঁদ, গোপীবল্লভ-রাধাবল্লভ, বালগোপাল, বলরামের মূর্তি রয়েছে। পুণ্যার্থীদের পাশাপাশি শিল্প গবেষকদের কাছে এই মন্দির অতীব আকর্ষণীয়। ১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় এই মন্দির (Jugal Kishore)।
আরও পড়ুনঃ ১০০-রও বেশি দেশে রফতানি করা হবে মারুতির ইলেকট্রিক গাড়ি, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
মন্দির নির্মাণের পেছনে রয়েছে ৩ শতাব্দীর বেশি পুরনো ইতিহাস। বর্ধমান রাজগঞ্জ এলাকার সেবাইত মোহন্ত স্বামী শুকদেব দাসের সঙ্গে আড়ংঘাটার মোহন্ত সেবাইত গঙ্গারাম দাসের মধ্যে গুরুশিষ্য সম্পর্ক ছিল। গঙ্গারাম কিশোর বয়সে শুকদেব দাসের কাছে দীক্ষা নেন। গঙ্গারাম বৃন্দাবন থেকে শ্রীকৃষ্ণর কিশোর বয়সের মূর্তি নিয়ে এসে নবদ্বীপের কাছে সমুদ্রগড়ে নিত্যপুজো করতেন। বর্গী হানার কারণে মূর্তি নিয়ে গঙ্গারাম চলে আসেন আড়ংঘাটায়। সেখানে তিনি সাহায্য চান বন্ধু রামপ্রসাদের কাছে। রামপ্রসাদ ছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রর রাজকর্মচারী। রামপ্রসাদের মাধ্যমে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রর কাছে পৌঁছে যায়। এর কিছুদিনের মধ্যে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র স্বপ্নাদেশ পান, ‘বাড়ির ভূগর্ভস্থ জায়গায় কিশোরী শ্রীরাধিকার ধাতব মূর্তি রয়েছে।’ মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রর উদ্যোগে শ্রীরাধিকার মূর্তি উদ্ধার হয়। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নিজে বজরায় করে শ্রীরাধিকার মূর্তি নিয়ে আসেন আড়ংঘাটায়। বর্তমানে মন্দির প্রাঙ্গণে বকুল গাছের নীচে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকার যুগল মূর্তি (Jugal Kishore)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/truthofbengal
মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নিজে দেবোত্তর সম্পত্তির কয়েক বিঘা জমি দান করেন। মন্দিরের নাম হয় যুগলকিশোর মন্দির। যুগল মিলনের আনন্দ উৎসব জৈষ্ঠ্যমাস জুড়ে পালনের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র আড়ং বা মেলার ব্যবস্থা করেন। সে সময় বাংলার নানা অঞ্চলে মেলাকে আড়ং বলা হত। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র সুসজ্জিত বরণডালা নিয়ে বিগ্রহকে বরণ করেন।
মনে করা হয় বরণডালা মাথায় নিয়ে বিগ্রহর পুজো করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়। মন্দির প্রাঙ্গণে ধরা পড়ে পুরাণের ছোঁয়া। দেওয়াল জুড়ে দশাবতার চিত্র। প্রাঙ্গনের চারপাশে রয়েছে তুলসীমঞ্চ যা বৈষ্ণব সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। প্রাচীন বকুল গাছ রয়েছে যা পরিচিত সিদ্ধ বকুল নামে। জৈষ্ঠ্যমাসে অনেকে কামনাবাসনা জানিয়ে বকুলগাছে ঢেলা বেঁধে যান (Jugal Kishore)।
প্রতিদিন যুগলকিশোরের বেশ বা পোশাক বদলানো হয়। মন্দিরে এখনো পর্যন্ত যে সব মোহন্ত ও সেবাইত পুজো করেছেন তাঁদের সকলের ব্যবহার করা খড়ম রাখা আছে। চূর্ণী নদীর পাড়ে বাঁধানো ঘাটের পাশে রয়েছে যুগলেশ্বর মহাদেবের মন্দির। স্থানীয় মহিলাদের বিশ্বাস জৈষ্ঠ্যমাসে যুগলকিশোরকে দর্শন করলে বৈধব্যযন্ত্রণা ভোগ করতে হয় না। এই বিশ্বাস নিয়ে এখানে পুজো দিয়েছিলেন ‘পথের পাঁচালী’র সর্বজয়াও।






