
The Truth of Bengal: এমন অনেক জায়গা আছে যে সব জায়গায় কালী পুজোয় আছে কিছু অন্যরকম প্রথা। তেমনই একটি প্রথা আছে পাণ্ডুয়ার মণ্ডলাইয়ের পথের মায়ের পুজোয়। ২০ ভরি সোনা ও ৫০ ভরি রুপোর অলঙ্কারে সাজিয়ে তোলা হয় পাণ্ডুয়ার মণ্ডলাইয়ের পথের মা-কে। সেই কালীপুজোয় আজও বুক চিরে রক্ত দেন ভক্তরা। এই পুজোর এটাই রীতি। আনুমানিক ৪০০ বছর আগে মণ্ডলাইয়ের পথের মায়ের পুজো শুরু হয়েছিল বলে মনে করা হলেও সঠিকভাবে দেবীর প্রতিষ্ঠা কবে, তা বলতে পারেন না কেউ।জানা যায়, পাণ্ডুয়ার মণ্ডলাই একদা ছিল জনশূন্য এলাকা ছিল।
মণ্ডলাই-এর ওপর দিয়ে বয়ে যেত কঙ্ক নামে একটি নদী। সেই নদীর তীরে ছিল একটি শ্মশান। কথিত আছে, সেই শ্মশান ছিল তন্ত্রসাধকদের পীঠস্থান। সেখানেই এক তন্ত্রসাধকের হাত ধরে এই কালীপুজোর শুরু হয় বলে লোকশ্রুতি রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, ওই কাপালি এক রাতের মধ্যে দীর্ঘাঙ্গি কালীমূর্তি তৈরির পর পুজো করতেন। সেই রাতেই বিসর্জন দিতেন। সবটাই করতেন লোক চক্ষুর আড়ালে। তবে হঠাৎ একজন কাপালিকের এই ক্রিয়াকলাপ দেখে ফেলেন। তারপর তার হাতেই পুজোর সমস্ত কিছু সমর্পণ করে অন্তর্হিত হয়ে যান সেই কাপালিক।
সেই সময় থেকেই তিনি পুজো করতেন। কালক্রমে সেই মূর্তি শ্মশান থেকে রাস্তার ধারে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীকালে এটি চলে আসে বারোয়ারি পুজো কমিটির হাতে।পথের পাশে বারবার এই পুজো হয়ে আসায় এই কালীর নাম ‘পথের মা’। প্রত্যেক বছর দীপান্বিতা অমাবস্যায় এখানে কালীপুজো হয়। মানত করা বহু মানুষ এখানে দণ্ডী কাটেন। তবে বিশেষভাবে উল্লেখ্য মানত করা অনেকেই নিজের বুক চিরে রক্ত সমর্পণ করেন মা-কে। যা আজও চলে আসছে। গ্রামের প্রচুর মানুষ আসেন এই পুজোতে।
Free Access






