দেশ

Supreme Court: শিক্ষার নামে মানসিক অত্যাচার! সুপ্রিম কোর্টের কড়া পদক্ষেপ

ফলত, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও বহু ছাত্র-ছাত্রী মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

Truth of Bengal: বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে পড়াশোনার  চাপ সেইসঙ্গে পরিবারের অতিরিক্ত প্রত্যাশা। আর তা তরুণ প্রজন্মের উপর যে মানসিক বোঝা তৈরি করছে, তা ক্রমশ উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। ফলত, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও বহু ছাত্র-ছাত্রী মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এই বাস্তব চিত্র সামনে রেখেই সুপ্রিম কোর্ট এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারগুলির জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করল। এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা ও আত্মহত্যার প্রবণতা রোধ। দুই বছর আগে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ১৭ বছরের এক নিট-প্রার্থী ছাত্রের আত্মহত্যা এবং সেই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার সময়েই শীর্ষ আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় (Supreme Court)।

আরও পড়ুন: Veer Parivar Yojana: ভারতের ইতিহাসে প্রথম! সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর পরিবারকে কেন্দ্রীয় আইনি সহায়তা

শনিবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানায়, বর্তমান শিক্ষা কাঠামো ছাত্রদের উপর যে চাপ সৃষ্টি করছে, তার বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা এখনও নেই। তাই আদালতের তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে,‘ভাল ছাত্র গড়ে তুলতে গিয়ে ছাত্রদের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এটা শুধু অনৈতিক নয়, সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার বিরুদ্ধেও।’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারের জন্য বেশ কয়েকটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে প্রথমত, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০০ বা তার বেশি পড়ুয়া রয়েছে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে গড়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, জয়পুর, কোটা, সিকর, হায়দরাবাদ, চেন্নাই-এর মতো শহরে, যেখানে হাজার হাজার ছাত্র কোচিং নিতে যান সেখানে বিশেষ নজরদারি চালাতে হবে। চতুর্থত, জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পড়ুয়াদের জন্য নিয়মিত ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও মানসিক উদ্বেগ কাটানোর পরামর্শদানের ব্যবস্থা করতে হবে (Supreme Court)।

Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1ADtx3ZZeU/

ছাত্রদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও কাউন্সেলিং করানো জরুরি। পঞ্চমত, ছাত্রদের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তাদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক। ষষ্ঠত,শিক্ষা দফতরকে পড়াশোনার কাঠামো ও শিক্ষাবর্ষ পরিকল্পনায় হস্তক্ষেপ করতে হবে, যাতে পড়ুয়াদের উপর অতিরিক্ত চাপ না তৈরি হয়। এই দায় দায়িত্ব নিতে হবে প্রতিটি রাজ্য সরকারকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই নির্দেশাবলি সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সংবিধানের ১৪১ নম্বর ধারার আওতায় এই নির্দেশ জারি হওয়ায়, এখন থেকে তা সর্বত্র কার্যকর হবে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। শুধু পড়াশোনায় সফল হওয়া নয়, তাদের সুস্থ মানসিকতা এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশিকা সেই দিকেই এক শক্তপোক্ত পদক্ষেপ (Supreme Court)।

Related Articles