সম্পাদকীয়

Mockery: টিটকিরি- অকর্মণ্যদের অমানবিক অস্ত্র

Mockery is a cruel weapon used by the insecure and idle to undermine others.

প্রভাত কুমার মিত্র (বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক): সমাজের পরতে পরতে আমরা নানা ধরনের মানুষের বাস দেখি (Mockery)। কেউ ইতিবাচক, সাহসী, কর্মঠ— আবার কেউ হীনমন্য, হিংসুক ও কর্মবিমুখ। এই দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষরা সমাজে নিজের অপূর্ণতা, অক্ষমতা, কিংবা হীনবোধ ঢাকতে এক অদ্ভুত অস্ত্রের আশ্রয় নেয়— টিটকিরি। এটি এক অদৃশ্য, অথচ মারাত্মক অমানবিক অস্ত্র, যা অন্যকে অপমানিত করে আনন্দ পাওয়ার সহজ উপায় মাত্র।

টিটকিরির আসল পরিচয়–

টিটকিরি মানে কোনও ব্যক্তি বা ঘটনার ওপর ব্যঙ্গ, ঠাট্টা, অথবা বিদ্রুপ করা। কথার মোড়কে হাসিঠাট্টার নামে অপমান। যে মানুষ নিজের কর্মে সফল নয়, যিনি নিজের জীবনে গঠনমূলক কিছু করতে পারেননি, তিনিই অন্যের সাফল্য, সাহসিকতা কিংবা সংগ্রামকে অপমানের মাধ্যমে ছোট করতে চান। এটি মূলত হীনমন্য মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ (Mockery)।

অকেজো ও অকর্মণ্যদের হাতিয়ার–

যারা নিজের জীবনকে গঠনমূলক পথে পরিচালিত করতে ব্যর্থ, তারা অন্যের চেষ্টা, সাধনা, বা সৎ উদ্যোগকে সহ্য করতে পারে না। কারণ এতে তাদের অপূর্ণতা, অলসতা, আর অযোগ্যতা প্রকাশ পায়। তাই তারা টিটকিরির মাধ্যমে অন্যের মনোবল ভেঙে দিতে চায়। যারা নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, তারা কখনও টিটকিরির আশ্রয় নেয় না। বরং যারা কাজবিমুখ, হিংসুক, আর পরনিন্দায় লিপ্ত, তারাই এই অস্ত্র ব্যবহার করে।

টিটকিরির ক্ষতিকর প্রভাব–

টিটকিরি শুধু যে কারও মনোবল ভেঙে দেয় তাই নয়, বরং সমাজের ইতিবাচক পরিবেশকেও বিষিয়ে তোলে। বিশেষ করে সাহসী, সৎ, বা নতুন কিছু করার চেষ্টা করা মানুষদের হতাশ করে। অনেক সম্ভাবনাময় মানুষ শুধুমাত্র সমাজের তুচ্ছ টিটকিরির ভয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন না। এটি এক সামাজিক ব্যাধি, যা অন্যের মঙ্গলকামনার পরিবর্তে অশুভ শক্তিকে উসকে দেয়।

দুর্বল মানসিকতার পরিচয়–

যে ব্যক্তি নিজের আত্মবিশ্বাসী এবং মজবুত মানসিকতার অধিকারী, সে কখনও অন্যকে তুচ্ছ করার কথা ভাবে না। টিটকিরি মূলত তাদের অস্ত্র, যারা নিজের জীবনের অপূর্ণতা ঢাকতে ব্যর্থ হয়ে অন্যের অর্জনকে ব্যঙ্গ করে। এরা জানে না যে, টিটকিরি করা মানে নিজের অযোগ্যতাকে জগৎসমক্ষে প্রকাশ করা (Mockery)।

টিটকিরি সমাজের পচনশীল মানসিকতার প্রতীক। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। যারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, সমাজপ্রেমিক এবং উন্নতচিন্তক, তারা কখনও টিটকিরির আশ্রয় নেন না। বরং অন্যের পাশে দাঁড়ান, উৎসাহ দেন, সহযোগিতা করেন। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত টিটকিরি-প্রবণ মানসিকতা থেকে বিরত থাকা এবং কর্মে, সদ্ভাবনায় ও ইতিবাচকতায় সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া (Mockery)।

Related Articles