অভিষেকের ওপর হামলাকারী ১১ জন চিহ্নিত! তালিকায় বিজেপির জেলা কমিটির হেভিওয়েটরা
সোনারপুরে হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে? অভিযুক্তদের চাঞ্চল্যকর নামের তালিকা দিয়ে থানায় এফআইআর তৃণমূলের
Truth of Bengal: শনিবার সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ওপর হওয়া নজিরবিহীন হামলার ঘটনার তদন্তে এবার বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিসিটিভি (CCTV) এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে মোট ১১ জন হামলাকারীকে চিহ্নিত করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সোনারপুর থানায় যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে দাবি করা হয়েছে যে, ধৃত ও চিহ্নিত হওয়া ব্যক্তিদের সিংহভাগই বর্তমান শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সক্রিয় কর্মী এবং জেলা স্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের অধিকারী।
তৃণমূলের জমা দেওয়া তালিকায় কারা রয়েছেন?
শনিবার সোনারপুরের কামরাবাঁধে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি আটকে যারা ডিম, জুতো, ইট-পাটকেল ছুঁড়েছিল এবং জামার কলার টেনে হেনস্থা করেছিল, তাদের একটি নামের তালিকা পুলিশের কাছে জমা দিয়েছে তৃণমূল। সেই তালিকায় রয়েছেন:
-
অভিজিৎ বিশ্বাস (বিজেপির জেলা কো-অর্ডিনেটর এবং এই হামলার মূল চক্রী)
-
সুস্মিতা দত্ত (জেলা বিজেপি সদস্য)
-
তিয়াসা বিশ্বাস (২৯ নম্বর ওয়ার্ডের মণ্ডল সভানেত্রী)
-
বাপি মাঝি ও কৃষ্ণেন্দু সরকার (৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি সদস্য)
-
অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় (বিজেপি জেলা কমিটির সদস্য)
-
নীলাঞ্জন সরকার (৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য)
-
এছাড়াও রয়েছেন সুমন দত্ত, সুদীপ হালদার এবং এলাকায় বিভিন্ন অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা আকাশ গায়েন।
তৃণমূলের দাবি, আকাশ গায়েন এবং সুমন দত্তরা সেদিন অভিষেককে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছিল এবং শারীরিক হেনস্থার চেষ্টা করেছিল।
কাঠগড়ায় খোদ পুলিশ প্রশাসন!
এই হাইপ্রোফাইল হামলার ঘটনায় শুধুমাত্র বিজেপিকেই নয়, বরং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকেও কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুর জেলা পুলিশকে সম্পূর্ণ রুট জানিয়ে সোনারপুরে যাওয়ার পরেও নিরাপত্তার ব্যাপক গাফিলতি ছিল। দুপুর দুটো থেকেই যে হামলাকারীরা ডিম ও ইট নিয়ে জড়ো হচ্ছিল, সেই খবর থাকা সত্ত্বেও পুলিশ চরম উদাসীনতা দেখিয়েছে। এই কারণে বারুইপুরের পুলিশ সুপার (SP) এবং সোনারপুর থানার আইসি (IC)-কেও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
“হেলমেট না থাকলে মাথায় লেগে মৃত্যু হত!” গর্জে উঠলেন মমতা
সোমবার এই পুরো ঘটনা নিয়ে প্রথমবারের জন্য ফেসবুক লাইভে এসে মুখ খোলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অত্যন্ত আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সেদিন অভিষেকের ওপর যারা এত বড় হামলা চালাল, তাদের পিছনে আদতে কাদের হাত রয়েছে? একজন নির্বাচিত বিদায়ী সাংসদকে আপনারা এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় আক্রমণ করলেন! যেভাবে ধেয়ে আসছিল একের পর এক ইট, সেদিন মাথায় হেলমেট পরা না থাকলে ওখানেই হয়তো মৃত্যু ঘটতে পারত ওঁর। আমি এখনও জানি না, ওর চোখের পুরনো চোটটা নতুন করে জখম হয়েছে কিনা।” ক্ষমতা বদলের পর ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদের ওপর এই হামলা এবং তা নিয়ে মমতার এই হুঁশিয়ারি ছাব্বিশের বাংলার রাজনীতিকে যে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।






