রাজ্যের খবর

অভিনব কালী দৌড় প্রতিযোগিতা,সম্প্রীতির এক অনন্য নজির

Abhinav Kali Race, a unique example of harmony

Truth of Bengal: কাঁধে প্রতিমা তুলে চলে কালী দৌড়। আর এই কালীদৌড় প্রতিযোগিতায় যাঁদের প্রতিমা অক্ষত থাকে,তাঁদের প্রতিমাই প্রথম বিসর্জন দেওয়া যায়। মালদার মালতীপুরের রাজার প্রচলিত রীতি মেনে কালী দৌড়  প্রতিযোগীতা হয়। সেই প্রতিযোগিতা দেখার জন্য দূর দূরান্তের দর্শনার্থীরা আসেন। সম্প্রীতির আবহের এক অনন্য নিদর্শন এই কালীদৌড় প্রতিযোগীতা।

কাঁধে বসে কালী।আর সেই কালী প্রতিমা কাঁধে নিয়েই দৌড় দেন পুজোর আয়োজকরা। কালী দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে  সম্প্রীতির এক আশ্চর্য আবহ তৈরি হয়। এই দৌড় প্রতিযোগীতার একটি নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম হল, দৌড়ে নিয়ে যাওয়ার পর যাদের কালী প্রতিমা অক্ষত অবস্থায় থাকবে, তাদের প্রতিমাকেই প্রথমে বিসর্জন দেওয়া হবে।তাই রাজ আমলের রীতি মেনে এখনও নিজেদের পূজিত কালী প্রতিমা কাঁধে করে নিয়ে ঘাটের দিকে দৌড়তে থাকেন উদ্যোক্তারা।

সেখানে বড় বিষয় হয়ে ওঠে  প্রতিমা অক্ষত রাখার চ্যালেঞ্জ। এককালে রাজ আমলে এই রীতি প্রচলিত হয়েছিল মালদায়। আর সেই রীতিকেই এখনও ধরে রেখেছে মালদার চাঁচলের মালতীপুরের মানুষ।হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এই কালী দৌড়ের অনুষ্ঠান দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে। আলাপনের  মতোই সম্প্রীতির আলিঙ্গনের এক অনন্য আবহ তৈরি করে এই অন্যরকম অনুষ্ঠান।

৩৫০বছরের এই  রীতির পিছনে লুকিয়ে আছে এক ইতিহাস।  নিয়ম মেনে আজও মা’কে বিসর্জন দেওয়া হয়। এর পিছনে লুকিয়ে আছে এক আশ্চর্য ইতিহাস। জানা যায়, সেই সময় মালতীপুর এলাকায় পুকুরের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। মালতীপুর কালীবাড়ী লাগোয়া পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হত একাধিক কালী প্রতিমাকে। সেই সময় চাঁচলের রাজা শরৎচন্দ্র রায় বাহাদুর সুষ্ঠুভাবে প্রতিমা নিরঞ্জন প্রক্রিয়া করার জন্য শুরু করেছিলেন এই কালী দৌড় প্রতিযোগিতা।

কালীপুজোর পরদিন মালতীপুর বাজারে একটি কালী দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তিনি। এই প্রতিযোগিতার নিয়ম ছিল দৌড়ে যাঁর প্রতিমা অক্ষুন্ন থাকবে, সেই প্রতিমাকেই প্রথম বিসর্জন দেওয়া হবে কালীদিঘিতে। সেই নিয়ম আজও বজায় রয়েছে মালতীপুরে। মালতিপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী সহ বিভিন্ন ক্লাব কর্তারা সম্প্রীতির আবহ বজায় রাখার বার্তা দেন।

Related Articles