Women Referee: সামাজিক চাপ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই! জঙ্গলমহলের মেয়ে রাজশ্রী আজ জাতীয় স্তরের রেফারি
২০১৭ সাল থেকে গোপীবল্লভপুরে ইন্ডিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে মেয়েদের রেফারি প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি চালু হয় জাতীয় স্তরের রেফারি শিক্ষক শুভঙ্কর খামরুইয়ের উদ্যোগে।
দেবব্রত বাগ, ঝাড়গ্রাম: সামাজিক কুসংস্কার ও বিয়ের চাপকে উপেক্ষা করে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলেছেন জঙ্গলমহলের জাতীয় স্তরের রেফারি রাজশ্রী হাঁসদা। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি অদম্য ভালোবাসা তাকে মাঠের বাইরে রাখতে পারেনি। আজ তিনি শুধু ফুটবল মাঠে নয়, জীবনযুদ্ধেও এক প্রেরণার নাম। ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের পারুলিয়া গ্রামের মেয়ে রাজশ্রী, বর্তমানে মাস্টার অফ ফিজিক্যাল এডুকেশনের ছাত্রী। ২০২১ সালে জঙ্গলমহল ফুটবল কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পান সিভিক ভলেন্টিয়ারের চাকরি। লেখাপড়া ও খেলাধুলা একসঙ্গে চালিয়ে যেতে গিয়ে বহু বাধা এসেছে, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি (Women Referee)।
আরও পড়ুনঃ Child Marriage: অদম্য সাহস! জোর করে বিয়ে রুখতে থানায় ফোন দশম শ্রেণির ছাত্রীর
২০১৭ সাল থেকে গোপীবল্লভপুরে ইন্ডিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে মেয়েদের রেফারি প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি চালু হয় জাতীয় স্তরের রেফারি শিক্ষক শুভঙ্কর খামরুইয়ের উদ্যোগে। বর্তমানে বেলিয়াবেড়া থেকে পরিচালিত এই অ্যাকাডেমিতে ১৬ জন মহিলা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। রাজশ্রীসহ সিনিয়ররা নিজস্ব চেষ্টায় অ্যাকাডেমি চালাতে সাহায্য করছেন। তবে সমাজের চাপ এখানেই শেষ নয়। অ্যাকাডেমির অন্তত ৮-১০ জন প্রশিক্ষণরত মেয়েকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে বিয়ে আটকানো গেলেও পরে আবার বিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্তরের রেফারি মাহি টুডু, মুনি খিলাড়ি, সোনামনি মুর্মু, সন্ধ্যা রানাদেরও একই রকম চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে (Women Referee)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1ADtx3ZZeU/
সম্প্রতি বিশ্ব আদিবাসী দিবসের সূচনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাদের স্থায়ী চাকরির আবেদন জানিয়েছেন রাজশ্রী। তার কথায়, “রেফারিং করে ম্যাচ পিছু টাকা মেলে, কিন্তু সারা বছর ম্যাচ থাকে না। স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা হলে আমরা অ্যাকাডেমিকে আরও এগিয়ে নিতে পারব, নিজেরাও স্বাবলম্বী হব।” সামনে আসাম, গুজরাটসহ বিভিন্ন রাজ্যে ম্যাচ রয়েছে। ব্যস্ততার মাঝেও রাজশ্রীর বার্তা— “মোবাইলে ডুবে থেকো না, মাঠে নামো, লড়াই করো। সাফল্য একদিন আসবেই (Women Referee)।”






