রাজ্যের খবর

চার জেলায় বন্ধ হল ইসকনের ‘অক্ষয় পাত্র’-র মিড ডে মিল, ফিরল পুরনো নিয়ম!

হাওড়া থেকে পুরুলিয়া, ইসকনকে দেওয়া মিড ডে মিলের দায়িত্ব কাড়ল স্কুল শিক্ষা দফতর! নেপথ্যে কী কারণ?

Truth of Bengal: রাজধানী কলকাতার সীমানা ছাড়িয়ে রাজ্যের চার গুরুত্বপূর্ণ জেলায় স্কুল পড়ুয়াদের মিড ডে মিল সরবরাহের জন্য দেওয়া বিশেষ অনুমতি এক লহমায় বাতিল করল রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দফতর। ইসকনের অনুগামী সংস্থা ‘অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন’-কে দেওয়া সেই অনুমোদনের চিঠি প্রকাশ্য নির্দেশিকা জারি করে কার্যকর হওয়ার আগেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চার জেলার প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ফের পুরনো নিয়মেই মিড ডে মিলের খাবার বিতরণ করা হবে। বিকাশ ভবনের এই আচমকা পদক্ষেপে স্বভাবতই আলোড়ন তৈরি হয়েছে রাজ্য প্রশাসনিক ও শিক্ষামহলে।

ক্ষমতা পরিবর্তনের পর রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে পুষ্টিকর ও উন্নতমানের খাবার পৌঁছে দিতে মিড ডে মিল সরবরাহের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে কলকাতার একাধিক স্কুলে এই পরিষেবা চালুর পর পর্যায়ক্রমে তা হাওড়া, পুরুলিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যেই এই চার জেলায় সেন্ট্রালাইজড কিচেন চালুর দায়িত্বে আনা হয়েছিল ‘অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন’-কে। কিন্তু নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পূর্ব মুহূর্তেই তা সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হল।

বিকাশ ভবনের জারি করা সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনকে দেওয়া পূর্ববর্তী অনুমোদনের সমস্ত নির্দেশ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। উল্লেখিত চার জেলার স্কুলগুলিতে নিজস্ব পরিকাঠামোয় রাঁধুনিদের দিয়ে যেভাবে রান্না করা খাবার পড়ুয়াদের পাতে তুলে দেওয়া হত, ঠিক সেই পুরনো পদ্ধতিতেই এখন থেকে মিড ডে মিল দেওয়া চালু থাকবে। স্কুল প্রাঙ্গণেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়ে ছাত্রছাত্রীদের বসিয়ে খাওয়ানো সুনিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যে জেলাশাসক ও শিক্ষা আধিকারিকদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এনজিও-র হাতে এই মেগা প্রকল্পের দায়িত্বভার তুলে দেওয়ার পর হঠাৎ কেন ব্যাকফুটে এল রাজ্য সরকার, সে বিষয়ে বিকাশ ভবনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ দর্শানো হয়নি। শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের মতে, স্থানীয় রাঁধুনিদের কাজ হারানোর আশঙ্কা ও বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার পক্ষেই মতামত জোরালো হয়েছিল। অবশ্য স্বস্তির বিষয় এটাই যে, কলকাতার স্কুলগুলিতে ইসকনের অপর শাখা ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’ যেভাবে পাইপলাইনে মিড ডে মিল সরবরাহ করছে, সেই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা আপাতত যথারীতি বজায় থাকবে।

Related Articles