রাজ্যের খবর

তিলজলায় অবৈধ কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ! দুর্নীতি দমনে সিবিআই-কে বড় ছাড়পত্র শুভেন্দুর

আলু চাষিদের জন্য ‘জিরো টলারেন্স’! ফড়েদের রাজত্ব খতম করতে নবান্ন থেকে জারি নয়া ফরমান

Truth of Bengal: তিলজলার সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আর বরদাস্ত করা হবে না। তিলজলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই অবৈধ কারখানার মালিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত অবৈধ কাঠামো ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তিলজলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কড়া পদক্ষেপ

তিলজলার ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসি (CESC)-কেও কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, “অবিলম্বে অভ্যন্তরীণ অডিট করে সমস্ত অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।” তিলজলার মতো ঘিঞ্জি এলাকায় কীভাবে বছরের পর বছর অবৈধ কারখানা চলেছে, তা নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি। আগামী এক দিনের মধ্যে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনকে।

চাষিদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী

আলু চাষিদের সমস্যা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছি। চাষিরা যাতে ফসলের সঠিক দাম পায় এবং ফড়েরা যাতে মাঝপথ থেকে মুনাফা লুটতে না পারে, তার জন্য কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে।”

সিবিআই ফাইল ও দুর্নীতির শেষ পেরেক

এদিন সবচেয়ে বড় চমক ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের অনুমোদন। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বহু আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও রাজ্য সরকারের অনুমোদনের অভাবে তদন্ত থমকে ছিল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিছু কাজ গত সরকার আটকে রেখেছিল। দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য সিবিআই বা আদালত নিযুক্ত সংস্থাকে যে অনুমতির প্রয়োজন ছিল, আমরা আজ সেই অনুমোদন দিয়ে দিলাম।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষা থেকে শুরু করে একাধিক দপ্তরের প্রাক্তন ও বর্তমান শীর্ষ আধিকারিকদের বিপদ বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘ট্রিপল স্ট্রোক’ এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক।

Related Articles