নার্সিংহোমে ভর্তি সন্তান প্রসব, সদ্যোজাতকে জানলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলল নাবালিকা
পরিবারও জানত না মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা! বাথরুমে প্রসবের পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার বিস্ফোরক দাবি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের
রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: উত্তরপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া এক ষোলো বছরের নাবালিকা কন্যাসন্তান প্রসব করার পর, সেই সদ্যোজাতকে নার্সিংহোমের ওপর থেকে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠল। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল নার্সিংহোমে?
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার বাসিন্দা বছর ষোলোর ওই নাবালিকাকে গত গভীর রাতে পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে বাড়ির লোকজন ওই বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করেছিলেন। পরিবারের দাবি, মেয়েটি যে অন্তঃসত্ত্বা ছিল, সে বিষয়ে তাঁদের বিন্দুমাত্র কোনও ধারণাই ছিল না। তাঁরা ভেবেছিলেন সাধারণ পেটের ব্যথা নিয়েই মেয়েটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।
এদিকে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, গতকাল রাত ১টা নাগাদ নাবালিকাকে ভর্তি করা হয় এবং সকালে তার রক্ত পরীক্ষাও হয়। সকালে পেটে ব্যথা কিছুটা বাড়লে সে নিজে হেঁটে বাথরুমে যায়।
চাঞ্চল্যকর প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও কর্তৃপক্ষের সাফাই
এলাকার এক যুবক জানান, তিনি যখন বাইরে কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎ করেই ওপর থেকে কিছু একটা জোরালো শব্দে ‘ধুপ’ করে মাটিতে পড়ার আওয়াজ পান। কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান একটি সদ্যোজাত শিশু মাটিতে পড়ে রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে নার্সিংহোমের এক নার্স এসে তড়িঘড়ি সেই শিশুকে তুলে ভেতরে নিয়ে চলে যান।
নার্সিংহোমের মালকিন সুচেতা মুখোপাধ্যায় চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, “মেয়েটির পরিবারও জানত না যে সে গর্ভবতী ছিল। ভর্তির সময় তাদের বারবার সেকথা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। বাথরুমে গিয়ে সে নিজেই সন্তান প্রসব করে এবং গর্ভধারণের কথা ও নিজের স্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রমাণ করতেই সে জানালা দিয়ে শিশুটিকে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।”
এই নৃশংস ও লোমহর্ষক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে এটি একটি জঘন্য অপরাধ এবং প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া। বর্তমানে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং নার্সিংহোমের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করছে।





