তারাপীঠেও এবার থেকে পোশাকবিধি! কী কী পরে ঢোকা যাবে না মন্দিরে?
পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে এবার থেকে নো এন্ট্রি! হাফপ্যান্ট, বারমুডা ও গামছা পরে মন্দিরে ঢোকা নিষিদ্ধ
Truth of Bengal: পুণ্যভূমি তারাপীঠে মা তারার দর্শন পেতে গেলে এবার থেকে পোশাকের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে ভক্তদের (Tarapith Temple Dress Code)। মন্দিরের আধ্যাত্মিক মর্যাদা, পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা নিখুঁতভাবে বজায় রাখতে পোশাকবিধি কার্যকরে আরও অনেক বেশি কঠোর হচ্ছে মন্দির কমিটি। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে আর হাফপ্যান্ট, বারমুডা, লুঙ্গি কিংবা গামছা পরে কোনওভাবেই মন্দিরের অন্দরে প্রবেশ করা যাবে না। শুধু সাধারণ দর্শনার্থীরাই নন, মন্দিরের সার্বিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সহযোগী সেবায়েতদের জন্যও এবার চালু হতে চলেছে কঠোর নির্দিষ্ট পোশাকবিধি।
পোশাকবিধি নিয়ে কঠোর অবস্থান মন্দির কর্তৃপক্ষের
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, পোশাক সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ আগে থেকেই কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার যথাযথ প্রয়োগ বা কড়াকড়ি দেখা যেত না। কিন্তু এবার আর কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করতে মন্দির চত্বরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বড় বড় সচেতনতামূলক বোর্ড বা হোর্ডিং লাগানো হচ্ছে। যাতে দেশের দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্ত ও পর্যটকরা মন্দির চত্বরে প্রবেশের আগেই এই সমস্ত নিয়মকানুন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।
কর্তৃপক্ষের সাফ বক্তব্য, তারাপীঠ কোনও সাধারণ দর্শনীয় স্থান বা পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র ও জাগ্রত তীর্থক্ষেত্র। তাই দেবালয়ের অন্দরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে শালীন ও মার্জিত পোশাক পরা অত্যন্ত জরুরি।
সেবায়েতদের জন্যও আসছে বড় বদল
শুধু ভক্তদের পোশাকই নয়, মন্দিরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলায় বড়সড় বদল আনছে কর্তৃপক্ষ। এতদিন মূল পুরোহিতরা ঐতিহ্যগতভাবে লাল পোশাকে থাকলেও সহযোগী সেবায়েতদের নির্দিষ্ট কোনো পোশাকের কড়াকড়ি ছিল না। তবে কালীপুজোর পর থেকেই সহযোগী সেবায়েতদের জন্য নির্দিষ্ট রঙের পোশাক বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
এর ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরোহিত ও সহযোগী সেবায়েতদের সাধারণ ভক্তদের থেকে খুব সহজেই আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বর্তমানে সমস্ত সহযোগী সেবায়েতদের পরিচয়পত্র যাচাই ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী কালীপুজোর ঠিক পরেই এই নতুন পোশাকবিধি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্দিরের সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে মন্দির কমিটি।






