পুরভোটে হাইকোর্টের বড় ধাক্কা! সব ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর বসানোর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
আদালতের আদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছল কলকাতা ও হাওড়া পুরভোট! বিরোধীদের ওপর মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী
Truth of Bengal: কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনে আদালতের বড়সড় ধাক্কার পরই বিরাট পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে কলকাতা ও হাওড়া পুরভোট। এর ফলে নাগরিক পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে কলকাতা পুর আইনের সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘কো-অর্ডিনেটর’ বা সমন্বয়ক নিয়োগের ঐতিহাসিক ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার রাতে বউবাজারে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের কালীপুজো উদ্বোধনে এসে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, আগামী ৩০ নভেম্বরের পর মহানগরের সমস্ত ওয়ার্ডেই এই কো-অর্ডিনেটর বা প্রশাসকরা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত পুরভোট
কলকাতা পুরসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কসবার প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলর দীপু দাস আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে একলাফে ২০৯টি ওয়ার্ড করায় সামগ্রিক বিন্যাসটি আইনসংগত ও সঠিক হয়নি।
সেই মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে শুক্রবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটের কোনও নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা যাবে না। এর ফলে কমিশন আগে নভেম্বরের শেষ দিক বা ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করানোর যে তোড়জোড় শুরু করেছিল, তা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ ভেস্তে গেল। আইনজীবীদের একাংশের মতে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার পর, আদালতের মামলা মিটলেই নতুন বছরে গড়াতে পারে পুরভোট।
বিরোধীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
আদালতের এই রায়ের পরেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। বউবাজারের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম দ্রুত নির্বাচিত বোর্ডের হাতে পুরসভার ক্ষমতা তুলে দিতে, যাতে সাধারণ মানুষ ঠিকমতো নাগরিক পরিষেবা পান। কিন্তু কেউ কেউ অবকাশকালীন বেঞ্চে গিয়ে ভোটটা আটকাতে গেছেন। আপনারা নির্বাচনে জিততে পারবেন না জেনেই ভোট আটকে দিতে চাইছেন।”
এর পরেই তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইন মেনেই ৩০ নভেম্বরের পর কলকাতার সমস্ত ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা হবে, যাঁদের ক্ষমতা সরাসরি নির্বাচিত কাউন্সিলরদের সমতুল্য হবে এবং তাঁদের তত্ত্বাবধানেই পুরপ্রশাসক সমস্ত কাজ পরিচালনা করবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট পিছিয়ে গেলেও প্রশাসনিক শূন্যতা রুখতে এই কো-অর্ডিনেটর মডেলই এখন শাসক দলের প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে।






