ক্লাস নাইনের হাফ ইয়ার্লি পাশ করতেই ছেলেকে ২.৩০ কোটি টাকার BMW! বর্ধমানের সামসুদ্দিনের কাণ্ডে চোখ কপালে
হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষায় পাস করলেই বাম্পার গিফট! কিশোর ছেলেকে আস্ত বিএমডব্লু গাড়ি উপহার দিলেন বাবা
Truth of Bengal: স্কুলের একটি সাধারণ পরীক্ষা পাস করা মানেই তো বাড়িতে সামান্য মিষ্টিমুখ বা বড়জোর নতুন জামাকাপড়। কিন্তু সেই গতানুগতিক ধারণাকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন পূর্ব বর্ধমানের গলসির এক নামজাদা ব্যবসায়ী। ক্লাস নাইনের হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষায় ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করার খুশিতে নিজের কিশোর ছেলেকে আস্ত একটি বিএমডব্লু (BMW) গাড়ি উপহার দিলেন তিনি। সাড়ে দু’কোটি টাকার এই বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা বর্ধমান জুড়ে শুরু হয়েছে চরম শোরগোল।
মুম্বই থেকে কেনা হল আড়াই কোটির গাড়ি
পূর্ব বর্ধমানের গলসি ২ ব্লকের পারাজ এলাকার বাসিন্দা সামসুদ্দিন মিদ্যা পেশায় অত্যন্ত সফল ও পরিচিত এক ব্যবসায়ী। দামি গাড়ি কেনার শখ তাঁর দীর্ঘদিনের। ইতিমধ্যেই তাঁর গ্যারাজে শোভা পাচ্ছে রেঞ্জ রোভার, ভলভো, মাহিন্দ্রা থার এবং হুন্ডাই আলকাজারের মতো একাধিক হাই-এন্ড গাড়ি। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল একেবারে ব্র্যান্ড নিউ বিএমডব্লু এম৪ কমপিটিশন (BMW M4 Competition)।
সামসুদ্দিনের ছেলে তালহা মিদ্যা স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। কিছুদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে ছেলের হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষার ফলাফল। দেখা যায়, বেশ ভাল নম্বর নিয়েই পাস করেছে তালহা। ছেলের এই সাফল্যে বেজায় খুশি হয়ে বাবা সোজা সিদ্ধান্ত নেন তাকে বিশাল কিছু উপহার দেওয়ার। যেমন ভাবা তেমন কাজ! ছেলেকে নিয়ে সোজা মুম্বই পৌঁছে যান তিনি। সেখানে গিয়ে নিজের পছন্দমতো কচি কলাপাতা রঙের গাড়িটি বুক করেন। ব্যবসায়ী সামসুদ্দিন মিদ্যা নিজেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছেলের এই বিলাসবহুল গাড়িটি কিনতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।
শাহরুখ খানের অন্ধ ভক্ত ও নম্বরের রহস্য
শুধু গাড়ি কেনাই নয়, এই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়েও রয়েছে দারুণ এক গল্প। সামসুদ্দিন মিদ্যার অন্যান্য বিলাসবহুল গাড়ির নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা বরাবরই ‘ট্রিপল ফাইভ’ (555) হয়। কিন্তু কেন এই বিশেষ শখ? জানা যায়, সামসুদ্দিন নিজে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের বিশাল বড় ভক্ত। সুপারস্টার শাহরুখের বহু গাড়ির নম্বরের সঙ্গেই নিজের গাড়ির এই মিল বজায় রাখেন তিনি।
এত বিপুল অর্থ খরচ করে ছেলেকে এই মহামূল্যবান গাড়ি উপহার দেওয়া প্রসঙ্গে অবশ্য সম্পূর্ণ বিনম্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন এই ব্যবসায়ী। সৃষ্টিকর্তার ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখে সামসুদ্দিনের সাফ কথা, “তিনিই সব করিয়েছেন, তাই আজ আমি এই গাড়ি কিনতে পেরেছি।” ক্লাসের সাধারণ পরীক্ষায় ছেলের এই আকাশছোঁয়া উপহার পাওয়ার ঘটনা এই মুহূর্তে গোটা রাজ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।






