রাজ্যের খবর

SIR-এ বাদ পড়া ভোটারদের জন্য ফের নাম তোলার সুযোগ, ASDD তালিকা প্রকাশের নির্দেশ কমিশনের

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বুথের সংশ্লিষ্ট ASDD ভোটারদের তালিকা ভোটকেন্দ্রের নোটিস বোর্ড, পঞ্চায়েত ভবন, পুরসভা, বিডিও অফিস এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যালয়ে টাঙাতে হবে।

জ্যোতির্ময় দত্ত, কলকাতা: SIR-এর প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের জন্য বড়সড় স্বস্তির বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। এনুমারেশন ফর্ম বিলি হওয়া সত্ত্বেও নানা কারণে যাঁদের নাম খসড়া তালিকায় ওঠেনি, তাঁদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নতুন করে সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিল কমিশন। বিশেষ করে ASDD (Absent, Shifted, Dead and Duplicate) তালিকাভুক্ত ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের কাছে ফের পৌঁছনোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর জারি করা নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের এনুমারেশন ফর্ম ফেরত পাওয়া যায়নি এবং সেই কারণে খসড়া ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি, তাঁদের বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করতে হবে। শুধু তালিকা প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের খুঁজে বের করে নতুন করে ফর্ম জমা দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে প্রশাসনকে।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বুথের সংশ্লিষ্ট ASDD ভোটারদের তালিকা ভোটকেন্দ্রের নোটিস বোর্ড, পঞ্চায়েত ভবন, পুরসভা, বিডিও অফিস এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যালয়ে টাঙাতে হবে। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটেও সহজে পড়া যায় এমন PDF আকারে তালিকা প্রকাশ করতে হবে। কোনও ভোটারের নাম কেন বাদ পড়েছে, তার সম্ভাব্য কারণও তালিকায় উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের খুঁজবেন BLO

এই প্রক্রিয়ায় বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া ভোটারদের খোঁজ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিবেশী, পরিবারের সদস্য এবং আবাসন সমিতির কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আগে থেকে থাকা ফোন নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলা হয়েছে।

চিহ্নিত ভোটারদের জন্য ECINET-এর ERO ড্যাশবোর্ডে নতুন করে আংশিক পূরণ করা এনুমারেশন ফর্ম তৈরি করতে হবে। BLO-দের মাধ্যমে সেই ফর্ম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। প্রয়োজনে WhatsApp, SMS এবং ই-মেলের মাধ্যমেও ফর্ম পাঠানো যাবে। ভোটারেরা নিজেরাও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অথবা ECINET অ্যাপ থেকে পুরনো EPIC নম্বর ব্যবহার করে ফর্ম ডাউনলোড ও পূরণ করতে পারবেন।

একই রাজ্যে ঠিকানা বদল হলে আলাদা নিয়ম

যাঁরা একই রাজ্যের মধ্যে এক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রেখেছে কমিশন। এ ক্ষেত্রে নতুন করে Form-8 জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। পরিবর্তে নতুন ঠিকানা ও সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের তথ্য দিয়ে Annexure-C-তে নির্দিষ্ট বিবৃতি, এনুমারেশন ফর্ম এবং ঠিকানার প্রমাণ জমা দিতে হবে। নতুন ঠিকানার সংশ্লিষ্ট ERO বা AERO-র কাছে এই নথি জমা দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে, যাঁরা কোথাও স্থানান্তরিত হননি, অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও কারণে এনুমারেশন ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁদেরও ফের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের পূরণ করা ও স্বাক্ষরিত ফর্মের সঙ্গে Annexure-B-তে একটি বিবৃতি জমা দিতে হবে। কেন নির্ধারিত সময়ে ফর্ম জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি, তার কারণ জানাতে হবে ওই বিবৃতিতে। সংশ্লিষ্ট ERO, AERO অথবা BLO-র কাছে সরাসরি কিংবা পরিবারের সদস্যের মাধ্যমে নথি জমা দেওয়া যাবে। ECINET-এ ই-সাইনের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

গৃহহীনদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

SIR-এর তালিকা থেকে বাদ পড়া গৃহহীন মানুষদের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন। তাঁদের কাছে বসবাসের ঠিকানার কোনও প্রামাণ্য নথি না থাকলে BLO-র সরেজমিনে যাচাইয়ের রিপোর্টকেই বসবাসের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে। গৃহহীন মানুষের বসতি ও যেখানে তাঁরা গুচ্ছভাবে বসবাস করেন, সেখানে মাইকিং করে এই সুযোগের কথা প্রচার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আগে Form-6 জমা দিলে ফের আবেদন নয়

কমিশনের নির্দেশিকায় আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। SIR চলাকালীন যাঁরা নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ইতিমধ্যেই Form-6 জমা দিয়েছেন, তাঁদের দ্বিতীয়বার এনুমারেশন ফর্ম জমা দিতে হবে না। ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা কমিশনের স্পষ্টীকরণ অনুযায়ী তাঁদের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।

নতুন করে জমা পড়া ফর্মগুলি যাচাইয়ের দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট ERO-দের উপর। আবেদনকারীর যোগ্যতা, সাধারণ বসবাসের ঠিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে সরেজমিনে তদন্তও করা হবে। ১৯৬০ সালের Registration of Electors Rules-এর ২১(১) বিধি মেনে এই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করতে হবে। একই ব্যক্তির নাম যাতে একাধিকবার ভোটার তালিকায় না ওঠে, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হলে আগের EPIC নম্বরই বরাদ্দ করতে হবে।

প্রচার ও নজরদারিতে জোর কমিশনের

বাদ পড়া ভোটারদের কাছে এই নতুন সুযোগের খবর পৌঁছে দিতে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম, সরকারি ওয়েবসাইট এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অবিলম্বে সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO), ERO, AERO এবং BLO-দের কাছে নির্দেশিকা পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি চালিয়ে কী কী পদক্ষেপ করা হল, তার রিপোর্টও দ্রুত কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে।

সব মিলিয়ে SIR-এর খসড়া তালিকায় নাম না ওঠা ভোটারদের জন্য কমিশনের এই নির্দেশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তবে নতুন করে ফর্ম জমা দিলেই নাম চূড়ান্ত তালিকায় উঠে যাবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলেই মিলবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ। কমিশনের লক্ষ্য, যোগ্য কোনও ভোটার যেন শুধুমাত্র ফর্ম জমা না পড়ার কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।

Related Articles