অভিষেকের বাড়ির সামনে মধ্যরাতে রণক্ষেত্র! ৭ জন জখম, ‘আমাকে প্রাণেই মেরে ফেলা হত’, বিস্ফোরক দাবি সাংসদের
"পুলিশের গালে চড় মেরেছে বিজেপির গুন্ডারা!", ৪ ঘণ্টার টানা ধরনা শেষে ভোরে ঘরে ঢুকলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ
Truth of Bengal: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের ঠিক প্রাক্কালে মধ্যরাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল তাঁর কালীঘাটের বাড়ি চত্বর। অভিষেক অনুগামীদের সঙ্গে এলাকার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে রক্তাত্ত হলেন অন্তত ৭ জন। স্লোগান, পালটা স্লোগান এবং তুমুল বাদানুবাদ থেকে শুরু হওয়া এই ঝামেলা নিমেষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে যে, স্বয়ং সাংসদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষোভ উগরে দেন এবং দাবি করেন, কর্মী-সমর্থকেরা না থাকলে তাঁকে আজ প্রাণেই মেরে ফেলা হতো!
কী ঘটেছিল শুক্রবার মধ্যরাতে?
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাত দেড়টা নাগাদ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উদযাপনের লক্ষ্যে তাঁর অনুগামীরা কালীঘাটের বাড়ির সামনে জড়ো হতে শুরু করেছিলেন। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়েই বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক সেখানে এসে ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পালটা স্লোগান দেন অভিষেকের অনুগামীরাও।
তর্কাতর্কির মাঝে হঠাৎ করেই একে অপরকে লক্ষ্য করে শুরু হয় দেদার ইটবৃষ্টি। ছেঁড়া হয় অভিষেকের ছবির অসংখ্য কাট-আউট ও পোস্টার। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভোররাত পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তপ্ত থাকে এলাকা। ধাওয়া-পালটা ধাওয়ায় দুই পক্ষের অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হন, যাঁদের অনেকের অস্ত্রোপচার লাগতে পারে বলে নবান্ন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ ও আদালতের দিকে আঙুল
ঘটনার পর রাত ২টো নাগাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত বিস্ফোরক এক পোস্ট করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “এইমাত্র রাত ২টোর সময় কলকাতা পুলিশের চোখের সামনেই বিজেপির গুন্ডারা আমার বাড়িতে হামলা করল। এই পুরো ঘটনাটি ঘটার সময় নীরব দর্শক হয়ে থাকার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ। আমি সমস্ত প্রমাণ আপলোড করব।” অভিযোগের তালিকায় অভিষেক আরও জানান, বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীরা নাকি কর্তব্যরত পুলিশের গালেও চড় মেরেছে!
রেকে করার অভিযোগ ও ৪ ঘণ্টার ধরনা
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালেই এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে অভিষেক দাবি করেছিলেন যে, তাঁর বাড়ির সামনে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন বাইক সওয়ারি ‘রেকে’ বা নজরদারি চালাচ্ছে। সেই রেকে করার পরেই রাতের এই অতর্কিত হামলা বলে মনে করছেন তিনি।
ঘটনার প্রতিবাদে নিজের বাড়ির সামনেই রাস্তায় চার ঘণ্টা অবস্থান ধরনায় বসে থাকেন সাংসদ। অবশেষে ভোরে তিনি ঘরে প্রবেশ করেন। শনিবার সকালে খবর পেয়েই অভিষেকের বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন মমতাপন্থী সাংসদ দোলা সেন। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে প্রবল ঝড়ের পূর্বাভাস মিলছে।






