খাবার নেই, হাতে নেই এক টাকাও, প্রাণ বাঁচান! সৌদি থেকে মোদি-শুভেন্দুকে আকুল আর্জি করিমপুরের দুই ভাইয়ের
কোম্পানি বেতন না দিয়ে বসিয়ে দিল কাজ থেকে! সৌদি আরবে নিঃস্ব করিমপুরের দুই ভাই, চোখের জলে বুক ভাসাচ্ছেন বৃদ্ধা ঠাকুমা
Truth of Bengal: কাজের সন্ধানে সুদূর বিদেশে পাড়ি দিয়ে চরম বিপাকে নদিয়ার করিমপুরের দুই ভাই। সৌদি আরবে গিয়ে হঠাৎই কাজ হারিয়ে অন্নসংস্থানের চরম সংকটে পড়েছেন তাঁরা। দিনে দু’বেলা দু’মুঠো খাবারও ঠিকমতো জুটছে না তাঁদের। একপ্রকার বাধ্য হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফিরে আসতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আকুল ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন ওই দুই ভাই। ছেলেদের এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে দেখে তাঁদের বাঁচাতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবারও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে নদিয়ার মুরুটিয়া থানার সিংহডাঙা গ্রাম থেকে কাজের খোঁজে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন সুশান্ত কাপাসিয়া ও তাপস কাপাসিয়া। সৌদি আরবের একটি বেসরকারী সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তাঁরা। কিন্তু অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে আচমকাই তাঁদের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুশান্ত ও তাপস ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, যে সংস্থায় তাঁরা যোগ দিয়েছিলেন, সেখানে বর্তমানে কাজ না থাকায় তাঁদের উপার্জন পুরোপুরি বন্ধ। এমনকি তাঁদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি (রিনিউ) না করে এবং কোনও প্রকার বকেয়া বেতন বা ক্ষতিপূরণ না দিয়েই কাজ থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সংস্থা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের দায়িত্ব ও খরচে দেশে ফিরতে হবে, কোম্পানি কোনও সাহায্য করবে না।
দুর্ভোগের কথা জানিয়ে তাপস ও সুশান্ত জানান, কেবল তাঁরা দু’জনই নন, নদিয়া জেলারই প্রায় ২৫-২৬ জন এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট প্রায় ৭০ জন শ্রমিক ওই একই কোম্পানিতে গিয়ে বর্তমানে অভুক্ত অবস্থায় আটকে রয়েছেন। বর্তমানে খাবার বা ওষুধ কেনার মতো কোনও অর্থ তাঁদের কাছে নেই। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, এই ঘটনার পর থেকেই করিমপুরের সিংহডাঙা গ্রামে তাঁদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের ছায়া। দুই নাতির দুঃসংবাদ শুনে চোখের জলে ভাসছেন বৃদ্ধা ঠাকুমা বিশাখা কাপাসিয়া। মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে আকুল আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, “নাতিরা না খেয়ে রয়েছে। ওদের জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।” বাবা তপন কাপাসিয়া জানান, দুই মাস ধরে ছেলেদের অন্য জায়গায় আটকে রাখা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ছেলেদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনবেন, এখন সেই অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছে পরিবার।





