দেশ

খাড়্গের সভাস্থল শুদ্ধিকরণ বিতর্কে উত্তরাখণ্ডের বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

মামলাটি শূন্য এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

Truth of Bengal: মল্লিকার্জুন খাড়্গের সভার পর সভাস্থল ‘শুদ্ধিকরণ’ করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তরাখণ্ডের বিজেপি নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বেঙ্গালুরুর বিধানসৌধ থানায় ৩১ আগস্ট এই মামলা নথিভুক্ত হয়। অভিযোগটি করেছিলেন কংগ্রেসের তফসিলি উপজাতি বিভাগের প্রাক্তন সহ-সভাপতি টি আর রামাপ্পা।

মামলাটি শূন্য এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ ঘটনার এলাকা যে থানার আওতায় পড়ে, সেই থানাতেই শুধু নয়, দেশের যে কোনও থানায় এমন এফআইআর করা যায়। বেঙ্গালুরু পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত করবে না তারা। মামলাটি পরবর্তী তদন্তের জন্য উত্তরাখণ্ডের হালদ্বানি থানায় পাঠানো হবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কংগ্রেস সভাপতি এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে ৮ আগস্ট উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলার হালদ্বানির রামলীলা ময়দানে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। অভিযোগকারীর দাবি, সেটি ছিল শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত গণতান্ত্রিক সমাবেশ। কিন্তু ১০ আগস্ট একই জায়গায় বিজেপির কয়েকজন নেতা ও কর্মী ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করেন।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, খাড়্গে তফসিলি জাতিভুক্ত হওয়ায় তাঁর উপস্থিতিতে সভাস্থল অপবিত্র হয়েছে— এমন বার্তা দিতেই ওই শুদ্ধিকরণ করা হয়েছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই ঘটনা শুধু অপমানজনক নয়, অস্পৃশ্যতা সংক্রান্ত আইনেরও লঙ্ঘন।

এই মামলায় উত্তরাখণ্ড বিজেপির সভাপতি মহেন্দ্র ভট্টের নামও রয়েছে। অভিযোগ, বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর তিনি ওই শুদ্ধিকরণকে সমর্থন ও যুক্তিসঙ্গত বলে তুলে ধরেছিলেন।

পুলিশ সুরক্ষা নাগরিক অধিকার আইন, তফসিলি জাতি ও উপজাতির উপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা করেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ১৩ আগস্ট রাজ্যসভায় বিষয়টি তোলেন খাড়্গে। পরে তিনি রাজ্যসভার নেতা জে পি নাড্ডাকে চিঠি লিখে মামলা দায়ের করতে দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। খাড়্গের দাবি, তাঁর সভার পর ওই স্থানে শুদ্ধিকরণ সংবিধানের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তিনি এই ঘটনাকে অস্পৃশ্যতার সঙ্গে যুক্ত করে ১৯২৭ সালের মহাড় সত্যাগ্রহের কথাও স্মরণ করেন।

অন্যদিকে, হালদ্বানি পুলিশ এর আগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও একটি মামলা করেছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি একটি নিয়মিত ধর্মীয় আচারকে জাতপাতের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, শুদ্ধিকরণ বিতর্ক থেকে নজর ঘোরাতেই রাহুলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

Related Articles