কলকাতাবিনোদন

নিউটাউনে ২৫ কোটির মেগা চমক! উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্যাস শুভেন্দুর

মিঠুন চক্রবর্তীকে বড় দায়িত্ব, কর্মসূচির মূল ‘পুরোহিত’ প্রসেনজিৎ! টলিউড নিয়ে চরম ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Truth of Bengal: মহানায়ক উত্তম কুমারের শতবর্ষ জন্মজয়ন্তীতে টলিউড ও বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ২৫ কোটি টাকার এক বিশাল মেগা প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সকালে নিউটাউনে রাজ্য সরকারের ঘোষিত ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর (Uttam Kumar Film Centre) শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভূমিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বিনোদন জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

নিউটাউনে প্রস্তাবিত এই অত্যাধুনিক ফিল্ম সেন্টারটির জন্য রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মোট তিনটি মূল পর্বে গড়ে উঠবে এই সেন্টারটি। প্রথম অংশে ৭৫০ আসন বিশিষ্ট দুটি সিনেমা হল, প্রিভিউ থিয়েটার, ফুড কোর্ট ও সুবিশাল কার পার্কিং থাকবে। দ্বিতীয় পর্বে থাকছে ১০০০ আসনের অডিটোরিয়াম এবং ওপেন এয়ার থিয়েটার। তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস (VFX), গেমিং, কমিকস ও পোস্ট-প্রোডাকশনের বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি ও স্টুডিও তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যে মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে এবং ডিপিআর (DPR) প্রস্তুতের কাজ চলছে। বর্ষা মিটলেই পুরোদমে নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্যের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কোনও রাজনীতির ভাগাভাগি নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুপ্রেরণায় সাংস্কৃতিকমনস্ক মানুষদের সঙ্গে নিয়েই আমরা এগিয়ে চলছি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই পুরো জন্মশতবর্ষ কর্মসূচির মূল সঞ্চালক ও পুরোহিতের দায়িত্ব নিয়েছেন। মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্য সরকারের ‘কালচারাল অ্যাডভাইজার’ (সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা) হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে। শুধুমাত্র ক্ষণিকের জন্য অনুষ্ঠান নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখার মতো কিছু সৃষ্টি করে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।” একইসঙ্গে প্রসেনজিতের রাজনীতিতে যোগদানের সমস্ত গুঞ্জন নস্যাৎ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্পীদের নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই, তারা স্রেফ মহানায়কের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পাশে দাঁড়িয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই মহাপরিকল্পনার প্রশংসা করে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যা বলেন, তা করে দেখান। আমি নিশ্চিত যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবেই।” আবেগপ্রবণ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও জানান, “যে ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা কাজ করছি, তা মহানায়ক তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে আন্তরিকতার সাথে এটি আয়োজন করেছেন, তাতে আমরা অভিভূত।”

Related Articles