কলকাতা

রাতের আকাশে ৩ হাজার ড্রোনের জাদুকরী আলো! পুজোর কলকাতায় বেনজির আলোক প্রদর্শনীর ভাবনা নবান্নের

পুজোয় চার ঘণ্টার ‘গ্র্যান্ড কনসার্ট’ থেকে ধুনুচি নাচ! বিশ্বমঞ্চে বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে নবান্নের মাস্টারপ্ল্যান

Truth of Bengal: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে গঙ্গাবক্ষে আয়োজিত ড্রোনের চমৎকার প্রদর্শনীর পর, এবার আসন্ন দুর্গাপুজোয় তিলোত্তমার রাতের আকাশ আলোকিত করতে চলেছে এক নজিরবিহীন ও অভিনব ‘ড্রোন শো’। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে এবার দুর্গাপুজোয় ব্যাপক আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শারদোৎসবের রাতে কলকাতার আকাশে প্রায় ৩ হাজার ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠবে দুর্গাপুজোর নানা পৌরাণিক ও ঐতিহ্যবাহী দৃশ্যপট। আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাঙালি সংগঠন এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলিকেও সরাসরি প্রযুক্তির মাধ্যমে এই উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

নবান্নের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ শো-তে হাজার হাজার ড্রোনের সূক্ষ্ম চলাচল, মনমুগ্ধকর আলোকসজ্জা, সুরের ঝঙ্কার এবং সুসজ্জিত মঞ্চের পারফর্ম্যান্স, সবকিছুর এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটানো হবে। মহালয়ার পাশাপাশি দুর্গোৎসবের প্রধান দিনগুলিতে বিশেষ রঙিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে মহাঅষ্টমীর বিশেষ রাতে ঐতিহ্যবাহী ধুনুচি নাচ, ঢাকের বোল, লোকশিল্পীদের পরিবেশনা এবং চোখধাঁধানো লাইটিংয়ের আয়োজন থাকছে।

এর পাশাপাশি, পুজো উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলিকে থিমভিত্তিক আলোকমালায় সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কেবল আলোর সাজেই সীমাবদ্ধ থাকছে না উৎসব। পর্যটন দপ্তরের তরফ থেকে কোনও বড় অডিটোরিয়াম বা বিশাল স্টেডিয়ামে দীর্ঘ চার ঘণ্টাব্যাপী এক রাজকীয় ‘গ্র্যান্ড দুর্গাপুজো কনসার্ট’ আয়োজনের তোড়জোড় চলছে।

এই মেগা কনসার্টে টলিউডের প্রথম সারির সেলিব্রিটি ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের পাশাপাশি পারফর্ম করবেন বাংলার প্রান্তিক অঞ্চলের লোকশিল্পীরা। ঢাক ও ধুনুচি নাচের সাথে ছৌ নৃত্য, ঝুমুর, বাউল গান, কীর্তন, রবীন্দ্রসংগীত, নেপালি সংস্কৃতি এবং সমকালীন শিল্পকলা একমঞ্চে মেলবন্ধন ঘটাবে। এ ছাড়া, বাংলার বিখ্যাত থিম প্যান্ডেল, পুজোর নানা আচার-অনুষ্ঠান, জিভে জল আনা ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং গ্রামীণ হস্তশিল্প ও তাঁতশিল্পকে বিশ্বব্যাপী প্রচারের প্রধান অঙ্গ হিসেবে তুলে ধরবে রাজ্য সরকার।

Related Articles