রাজ্যের খবর

গাইতে হবে পুরো বন্দে মাতরম! নাহলে স্কুলে সরকারি অনুদান বন্ধের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

থাকবে না আলাদা মাদ্রাসা বোর্ড! রাজ্যে এক শিক্ষানীতি চালুর বার্তা দিয়ে তোলপাড় ফেললেন শুভেন্দু

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় যাবতীয় বৈষম্য দূর করে সমগ্র রাজ্যে ‘এক শিক্ষানীতি’ চালুর স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে ‘বিদ্যাভারতী’র বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে একাধিক বিস্ফোরক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। সাফ জানিয়ে দেন, সরকারি সাহায্য পেতে হলে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলের প্রার্থনা সভায় পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং তাতে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ করতেই হবে। একইসঙ্গে রাজ্যে পৃথক কোনো মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা আর থাকবে না বলেও জোরালো ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রার্থনা সভায় জাতীয় গান গাওয়া প্রসঙ্গে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রথমে কিছুজনের আপত্তি ছিল যে কেন পুরো গানটা গাইতে হবে? আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, নিয়ম না মানলে সরকারি অনুদান নেওয়া এবং দেওয়া— দুটোই বন্ধ করে দেওয়া হবে। শিক্ষা সচিব আমাকে একটি ভিডিও পাঠিয়েছিলেন, সেখানে দেখলাম অনেকে দাঁড়িয়ে থাকলেও ঠোঁট নাড়াচ্ছেন না। আমি স্পষ্ট বলেছি, সকলকে সশরীরে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি ঠোঁটও নাড়াতে হবে।”

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার সম্পূর্ণ রাষ্ট্রবাদী সরকার। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে সম্বল করে আমরা এগোচ্ছি। দেখতে থাকুন, ধীরে ধীরে রাজ্যে আলাদা করে কোনও মাদ্রাসা এডুকেশন সিস্টেম থাকবে না। সব বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষা দফতরই পরিচালনা করবে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা কোনও নিয়ম বা তোষণ চলবে না।”

পূর্ববর্তী বাম ও তৃণমূল জমানার শিক্ষানীতির কড়া সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, এতদিন সিলেবাসে সিঙুর থেকে টাটা তাড়ানোর ইতিহাস পড়ানো হলেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বা স্বামী প্রণবানন্দের বাংলা গড়ার অবদান গোপন রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম বইয়ে পাওয়া গেলেও ক্ষুদিরাম বসু বা মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মত্যাগের ইতিহাস খুঁজতে পাতায় পাতায় হাতড়াতে হত।” এদিনের অনুষ্ঠান থেকে আগামী এক বছরের মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত রাজ্যে ‘বিদ্যাভারতী’ পরিচালিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে ১ হাজারে নিয়ে যাওয়ার বড় ঘোষণা করেন তিনি।

Related Articles