রাজ্যের খবর

তোলাবাজি ও কাটমানি রুখতে ‘কাটমানি ফাইলস’ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী

হকার ও অটোচালকদের কাছ থেকে বেআইনি তোলা আদায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পগুলিতে কাটমানি নেওয়ার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

Truth of Bengal: এবার রাজ্যে তোলাবাজি ও কাটমানি রুখতে ‘কাটমানি ফাইলস’ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হকার ও অটোচালকদের কাছ থেকে বেআইনি তোলা আদায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পগুলিতে কাটমানি নেওয়ার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

শনিবার ডায়মন্ড হারবারে রাজ্যের সমস্ত জেলার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত মেগা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই ধরনের কোনও অভিযোগ সামনে আসামাত্রই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। কাটমানি ও তোলাবাজির পাশাপাশি ছাব্বিশের নির্বাচন পরবর্তী হিংসা, নারী নির্যাতন এবং সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের একাংশের অত্যাচারের অভিযোগের বিষয়েও জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ দমনে পুলিশকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং নতুন কেন্দ্রীয় আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) অনুযায়ী কঠোরভাবে কাজ করতে হবে, যেখানে কোনওরকম রাজনৈতিক প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না।

ডায়মন্ড হারবারের মেগা প্রশাসনিক বৈঠক শেষে রাজ্যের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি প্রশাসনের শীর্ষস্তরে পৌঁছে দিতে এবার চার স্তরের এক বিশেষ অভিযোগ প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। রাজ্য পুলিশের ডিজিপি, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং সমস্ত জেলার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে এবার থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। এই বিষয়গুলি হলো— রাজনৈতিক হিংসা, পুলিশি অত্যাচার, সরকারি প্রকল্পে কাটমানি এবং মহিলাদের ওপর হওয়া যেকোনো রকমের নির্যাতন। অপরাধ দমনে এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষায় প্রশাসন যে সম্পূর্ণ অনমনীয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত রূপরেখা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিগত ৫ বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে থাকলে, ভুক্তভোগীরা এখন নতুন করে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করতে পারবেন এবং পুলিশ তার ভিত্তিতে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেবে। একইসঙ্গে, স্থানীয় স্তরের বা উচ্চস্তরের কোনো পুলিশ আধিকারিক যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে থানায় ডেকে হেনস্থা বা অত্যাচার করে থাকেন, তবে সেই সংক্রান্ত অভিযোগও সরাসরি জানানো যাবে। মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়ে সাফ বলেন, “মহিলাদের ওপর হওয়া নির্যাতন বা অত্যাচারের কোনো ঘটনা যদি অতীতে পুলিশ বা অন্য কেউ আপসে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে থাকে, তবে সেই বিষয়েও এখন নতুন করে এফআইআর দায়ের করা যাবে। নারী সুরক্ষায় কোনো রকম সমঝোতা বরদাস্ত করা হবে না।”

পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় কিংবা রাজ্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে যারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাটমানি বা তোলা নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও এবার সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে নবান্ন। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, এখন থেকে পুলিশ সম্পূর্ণভাবে নতুন কেন্দ্রীয় আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) অনুযায়ী কাজ করবে। যদি কেউ ডিজিটাল মাধ্যম কিংবা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে কাটমানির টাকা দিয়ে থাকেন, তবে সেই প্রমাণসহ অভিযোগ দায়ের করা যাবে। তবে ডিজিটাল প্রমাণ না থাকলেও ভয়ের কিছু নেই; কোনো রকম লিখিত প্রমাণ ছাড়াও শুধু অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তকারী অফিসাররা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন। দুর্নীতি ও অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই কড়া অবস্থান।

তবে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার রুখতেও সমান্তরালভাবে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “আমি চার স্তরে অভিযোগ জানানোর কথা বলছি বলে যে কেউ এসে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে ভুয়ো অভিযোগ দায়ের করবেন, তেমনটা একেবারেই চলবে না।” তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়ো, তবে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। আইনের চোখ যে সবার জন্য সমান, তা মনে করিয়ে দিয়ে ভুয়ো অভিযোগকারীদের আগেভাগেই সতর্ক করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles