রাজ্যের খবর

মাত্র ১ হাজার ৬৫০ ভোটের ব্যবধান মুছে ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া তৃণমূল আত্মবিশ্বাসী চিন্তামণি—‘মানুষই ভরসা’

কেন্দ্র পুনর্দখলের লক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ভরসা রেখেছে জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তামণি বিহার উপর

বিশ্বদীপ নন্দী, তপন: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ছ’টি বিধানসভার মধ্যে তপন আলাদা করে নজর কাড়ে আসে তার জনসংখ্যার চরিত্রের জন্য। আদিবাসী ও তপশিলি উপজাতি মানুষের সংখ্যাধিক্যের কারণে এই কেন্দ্র সংরক্ষিত। দীর্ঘদিন বাম আমলে এই কেন্দ্র কার্যত বাম শরিক আরএসপির দখলেই ছিল। পরিবর্তনের হাওয়ায় ২০১১ ও ২০১৬—টানা দু’দফা এই কেন্দ্র জিতে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। বাচ্চু হাজদার জয়ে তখন ঘাসফুলের দখল মজবুত হয়। তবে ২০২১ সালে চিত্র বদলে যায়। বিজেপির বুধরাই টুডু ৮৪ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে (৪৫.২৯ শতাংশ) আসনটি দখল করেন। তৃণমূল প্রার্থী পান ৮২ হাজার ৭৩১ ভোট (৪৪.৪১ শতাংশ)। ব্যবধান মাত্র ১ হাজার ৬৫০।

২০২১-এর সেই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট আজও আলোচনায়। গোটা বিশ্ব যখন করোনা মহামারির সঙ্গে লড়ছে, ঠিক সেই সময় প্রার্থী ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই তৃণমূলের প্রার্থী গুরুতরভাবে আক্রান্ত হন। দীর্ঘ সময় গৃহবন্দি অবস্থায় থেকেই তাকে লড়তে হয় ভোটযুদ্ধ। তৃণমূল কর্মীরা ময়দানে লড়াই চালালেও অল্প ব্যবধানে হার স্বীকার করতে হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রার্থী সরাসরি প্রচারে থাকলে ফল ভিন্ন হতে পারত।

এবারের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী

এবার সেই কেন্দ্র পুনর্দখলের লক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ভরসা রেখেছে জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তামণি বিহার উপর। নিজের জয়ের বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তিনি।

দিন শুরু মুড়ি-জল, তারপর মন্দিরে পুজো

প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেও জীবনযাপন একেবারে মাটির কাছাকাছি। আদিবাসী পরিবারের মেয়ে চিন্তামণি বিহা দিনের শুরু করেন মুড়ি-জল খেয়ে। তারপর এলাকার কোনও মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি।

দুপুরের ভাত কর্মীর বাড়িতেই

দুপুরে প্রচারের ফাঁকে নির্দিষ্ট কোনও আড়ম্বর নেই। কর্মীর বাড়িতেই বসে পড়েন খেতে। যা জোটে, তাই তৃপ্তির সঙ্গে গ্রহণ—এভাবেই মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা।

তৃষ্ণা মেটে সাধারণ মানুষের জলেই

তপ্ত দুপুরে প্রচারের সময় গলা শুকিয়ে এলে আলাদা কোনও ব্যবস্থা নয়। যে বাড়িতে যাচ্ছেন, সেখানেই এক গ্লাস জল চেয়ে নিয়ে তৃষ্ণা মেটান তিনি।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বুধরাই, তবে কাউকে হালকাভাবে নয়

বর্তমান বিধায়ক বুধরাই টুডুকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন চিন্তামণি। তবে বাম প্রার্থী বাপ্পাই হরো-সহ অন্য কাউকেই ছোট করে দেখতে নারাজ তিনি।

‘পাঁচ বছরে এলাকায় দেখা মেলেনি’

বিজেপির বিদায়ী বিধায়ককে আক্রমণ করে চিন্তামণির দাবি, গত পাঁচ বছরে এলাকায় তাঁর উপস্থিতি প্রায় ছিল না বললেই চলে। যাকে এলাকায় দেখা যায়নি, তিনি উন্নয়ন কীভাবে করবেন, তা মানুষ জানেন,—মন্তব্য তাঁর।

জিতলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি

ভোটে জয়ী হলে পথঘাট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন চিন্তামণি। তাঁর কথায়, সারা রাজ্যে যে উন্নয়নের ধারা চলছে, সেটাই আরও জোরদার করা হবে। সার্বিকভাবে এই বিধানসভা এলাকার উন্নয়ন সাধন করা হবে। তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য রাজ্য সরকারের গৃহীত প্রকল্প গুলি বাস্তবায়ন ঘটানো হবে। প্রত্যেকটি পরিবারের সদস্যরা যাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গৃহীত প্রকল্পগুলির পরিষেবা পান সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

নিজের মাটি, চেনা সমস্যা

এই কেন্দ্রেরই জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি হওয়ায় এলাকার সমস্যাগুলি তাঁর নখদর্পণে। তাই রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি তপনের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়াই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য। জেলা পরিষদের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা ইতিমধ্যে তপন বিধানসভা এলাকার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। চিন্তামণি বলেন, গত পাঁচ বছরে এই এলাকার বিধায়ককে কাছে পাননি সাধারণ মানুষ। এলাকায় বিধায়ক কোটার টাকায় কোন উন্নয়নমূলক কাজ চোখে দেখা যায়নি। যে উন্নয়ন হয়েছে তা রাজ্য সরকারের এবং জেলা প্রশাসনের অর্থে। সাধারণ মানুষ গত পাঁচ বছরে বুঝতে পেরেছেন বিজেপিকে জিতিয়ে তারা কী ভুল করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে তপন বিধানসভা এলাকার সাধারণ মানুষ জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন।

Related Articles