‘তৃণমূল ভাঙানোর খেলায় যুক্ত দুই স্পিকার!’, তোপ দেগে প্রশিক্ষণ শিবির বয়কট কুণালের
“সংসদীয় রাজনীতি এদের কাছে শিখব না!”, ওম বিড়লা-রথীন্দ্র বসুকে ‘তৃণমূল ভাঙার কারিগর’ বলে তোপ কুণালের
Truth of Bengal: শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সংসদীয় রীতিনীতি শেখানোর দুদিন ব্যাপী বিশেষ কর্মশালা শুরু হয়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংহ, রাজ্যপাল আর এন রবি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েটদের উপস্থিতিতে হলঘরে হাজির ছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষও। তিনি নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট ডেলিগেট কার্ডও সংগ্রহ করেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী ও বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বোধনী বক্তৃতা শেষ হতেই আচমকা ক্ষোভে ফেটে পড়ে অনুষ্ঠান বয়কট করেন কুণাল।
বেরিয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সংবাদমাধ্যমের সামনে বোমা ফাটান কুণাল ঘোষ। তিনি লোকসভা ও বিধানসভার দুই স্পিকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “বিধায়ক হিসেবে এই শিবিরে আসাটা আমার কর্তব্য ছিল, তাই এসেছিলাম। কিন্তু দিল্লির সংসদে তৃণমূলকে আক্ষরিক অর্থে ভাঙার খেলায় যুক্ত রয়েছেন স্বয়ং স্পিকার ওম বিড়লা। অন্য দলে মিশে যাওয়া দলত্যাগী সাংসদদের বরখাস্ত না-করে উনি তাঁদের সঙ্গে নিয়ে গ্রুপ ছবি তুলছেন! আর আমাদের বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুও সেই একই পথে হেঁটে ‘বেইমান’গুলোকে অনুমোদন দিয়েছেন। যাঁরা দলবদলুদের প্রশ্রয় দেন, এঁদের কাছে আমি অন্তত সংসদীয় রাজনীতি বা শিষ্টাচার শিখব না।”
“আমার শিক্ষক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়”, দলবদলুদের কড়া বার্তা প্রথম বারের বিধায়কের
লোকসভা ও বিধানসভার স্পিকারদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে অস্বীকার করলেও, পরিষদীয় রীতিনীতি কীভাবে শিখবেন তার বিকল্প পথও বাতলে দিয়েছেন প্রথম বারের বিধায়ক কুণাল। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে এই রাজ্যের স্পিকার পদে থাকা শ্রদ্ধেয় বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিধানসভায় আমার সহকর্মী। উনি একজন জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। আমি তাঁর ঘরে গিয়ে, তাঁর পায়ে হাত দিয়ে পরিষদীয় রাজনীতি ও নিয়মনীতির পাঠ নেব।” কুণাল ঘোষের এই ‘বেইমান’ খোঁচা যে আদতে মমতার হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের উদ্দেশ্যেই, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
২০ সাংসদের এনসিপিআই-এ যোগদান, সুদীপ-শতাব্দীদের নিশানা কুণালের?
আসলে ছাব্বিশের ভোটের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে আড়াআড়ি বিভাজন এখন স্পষ্ট। কালীঘাট শিবিরের তরফে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন এবং স্পিকার রথীন্দ্র বসুর অনুমোদনে শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, দিল্লির বুকেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শতাব্দী রায়-সহ তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ নিজেদের গোষ্ঠীকে এনসিপিআই (NCPI)-এর সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন এবং স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখাও করেছেন। এই দলত্যাগী সাংসদ ও বিধায়কদের স্পিকাররা আইনি বৈধতা দেওয়ায়, তার বিরুদ্ধেই মূলত এদিন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে গর্জে উঠলেন কুণাল ঘোষ।





