সুন্দরবনে পাখিদের রাজত্ব! বাড়েছে নানা প্রজাতির মাছরাঙার সংখ্যা
জানুয়ারি মাসে হওয়া পাখিদের ওপর যে সমীক্ষা হয় তার বিস্তারিত রিপোর্ট গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ।
Truth Of Bengal: বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের সাফল্যর মুকুটে যোগ হল নয়া পালক। বেশ কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে নিজের পুরনো রূপ ফিরে পেয়েছে সুন্দরবন। ধীরে ধীরে সেখানে বেড়েছে পাখির সংখ্যা। গত জানুয়ারি মাসে সুন্দরবনে পাখি উৎসব হয়। সে সময় এক সমীক্ষা রিপোর্টে উঠে আসে, সুন্দরবনে বর্তমানে ৩২ হাজারের বেশি পাখি রয়েছে, আগের বছরগুলির তুলনায় যা ২৫০% বেশি। জানুয়ারি মাসে হওয়া পাখিদের ওপর যে সমীক্ষা হয় তার বিস্তারিত রিপোর্ট গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ। তাতেই বলা হয়েছে, সুন্দরবনে বেড়েছে বিভিন্ন প্রজাতির কিংফিশার বা মাছরাঙার সংখ্যা।
সুন্দরবনে গত ৩ বছরে ৭টির মধ্যে ৫টি প্রজাতির মাছরাঙাকে অনেক বেশি সংখ্যায় দেখা গেছে। এর থেকেই অনুমান করা যায়, সুন্দরবনে মাছরাঙার সংখ্যা বেড়েছে। দেশে ১২ রকম প্রজাতির মাছরাঙা। পাওয়া যায়। তার মধ্যে শুধু সুন্দরবনেই দেখা যায় ৭ রকম প্রজাতির মাছরাঙা। এবার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ব্ল্যাক ক্যাপড কিংফিশার।
সুন্দরবনে ২০২৩ সালে ৩৬টি এই প্রজাতির মাছরাঙা দেখা গিয়েছিল। পরের বছর বেড়ে হয় ৪৫। সেই জায়গায় ২০২৫ সালে ২০৭টি ব্ল্যাক ক্যাপড কিংফিশার দেখা গেছে। পাশাপাশি ৭৫টি কলার্ড কিংফিশার দেখা গেছে। গতবার ১১টি দেখা গিয়েছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই মাছরাঙা নজরে এসেছে তাদের শিকার ধরার সময়ে। তবে ২টি প্রজাতির মাছরাঙা তুলনামূলক ভালো কম সংখ্যায় দেখা গেছে। মাত্র একটি স্টর্ক বিল্ড কিংফিশার দেখা গিয়েছে গোটা সুন্দরবনে। এছাড়াও কম দেখা গেছে ব্রাউন উইংগড কিংফিশার।
পাখিদের সংরক্ষণ বা তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন টাইগার রিজার্ভের কর্তারা। তাই ‘পাখিমিত্র’ নিযুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মূলত পাখিদের বসবাসের জায়গার ওপর নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা। কীভাবে এই পাখিদের সুরক্ষিত রাখা যায়, সেটাই হবে ‘পাখিমিত্র’দের মূল কাজ। টাইগার রিজার্ভের আধিকারিকরা মনে করেন, কোনো প্রজাতির পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে বা অল্প সংখ্যায় রয়েছে কিনা, তা নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে আরও কয়েক বছর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তাতে যদি দেখা যায়, সংখ্যা একই আছে, তখন এনিয়ে আরও নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন আছে।
আগের বছরগুলিতে সুন্দরবনে ১৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ দেখা যায় কিন্তু এখন সেখানে ১৫৪ প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে। ৯১ টি প্রজাতির নতুন পাখির দেখা মিলেছে। নদীতে বাড়ছে কুমিরের সংখ্যাও। এখানকার পাখিদের মধ্যে ৫১ টি প্রজাতি পরিযায়ী এবং বাকি ১০৩ টি প্রজাতি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। বিগত কয়েক বছর আগে এখানে পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে সেখান থেকে ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সুন্দরবন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরা এসে নিজেদের বাসা তৈরি করছে সুন্দরবন অঞ্চলে। তাদের দেখে আরও পাখিরা এসে এখানে বাসা করছে। ফলে দ্রুত এখানে পাখির সংখ্যা বাড়ছে।






