ফুলিয়া স্টেশনের সেই ছোট্ট চা-ওয়ালা সঞ্জুর পাশে এবার বহু সহৃদয় মানুষ, বাড়ালেন সাহায্যের হাত!
খবরের প্রভাবে বহু সহৃদয় ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন তার পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
মাধব দেবনাথ,নদিয়া: নদিয়ার ফুলিয়ার বাসিন্দা ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র সঞ্জু দাসের জীবনযুদ্ধে এবার এক নতুন আশার আলো। ফুলিয়া এক নম্বর স্টেশন সংলগ্ন রেলের জমিতে অসুস্থ বাবা বিশ্বনাথ দাসের সঙ্গে বসবাস করে এই খুদে। একদিকে ফুলিয়া শিক্ষা নিকেতনের পড়াশোনা, অন্যদিকে অসুস্থ বাবার পাশে দাঁড়িয়ে সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ট্রেনে ট্রেনে চা বিক্রি করতে হতো তাকে।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে সঞ্জুর এই কঠিন জীবনসংগ্রামের খবর প্রকাশ পেতেই সাড়া পড়ে যায় রাজ্যজুড়ে। খবরের প্রভাবে বহু সহৃদয় ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন তার পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই সঞ্জুর ভবিষ্যৎ পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহন করার পাশাপাশি তার বাবা বিশ্বনাথ দাসের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ছেলের এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও বেঁচে থাকার লড়াই দেখে আবেগপ্লুত অসুস্থ বাবা। তিনি জানান, অভাবের তাড়নায় ট্রেনে চা বিক্রি করলেও সঞ্জুর আসল স্বপ্ন একজন শিক্ষক হওয়া। সমাজের মানবিক চেহারায় এখন আর ট্রেনে ট্রেনে চা বেচতে হবে না সঞ্জুকে, বরং সে নিজের লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
সংবাদমাধ্যমের উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের বাড়িয়ে দেওয়া এই সহায়তার পর এখন দেখার, জীবনের সমস্ত বাধা অতিক্রম করে নিজের স্বপ্নের দিকে কতটা সফলভাবে পৌঁছে যেতে পারে নদীয়ার এই লড়াকু পরিবার।






